সড়কবিহীন সেতুর ৩৫ বছর: খসে পড়ছে ঢালাই

চাকল বিলের মাঝখানে ৩৫ বছর আগে যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা এখন ভেঙ্গে খসে পড়ছে। যুগ পেড়িয়ে গেলেও সেতুটি ব্যবহার করতে পারেনি এই এলাকার মানুষ। কারণ বিলের থইথই পানির ভেতর সেতু নির্মাণ হলেও হয়নি মানুষ চলাচলের সড়ক।

অথচ গ্রামীণ উন্নয়ন অবকাঠামোর আওতায় আশির দশকে মানুষের চলাচলের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল গুরুদাসপুরের চাকলের বিলে। উদ্দেশ্য ছিলো, ধারবারিষা ইউনিয়নের জোলাগাড়ির সঙ্গে চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। এতে উপজেলার সঙ্গে মকিমপুর তথা চাপিলা ইউপির বড় একটা অংশের সহজ যোগাযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবে এসবের কিছুই হয়নি। সেতুটি তিন যুগ ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সড়ক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু জাফর মিয়া ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে সেতুটি নির্মাণ করেছিলেন। সেতুটি ব্যবহার করতে সে সময় মকিমপুর উত্তরপাড়া থেকে ঝাড়পাড়া-জোলাগাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিলের উত্তাল ঢেউয়ে বছর ঘুরতেই মাটির সড়কটি বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে আর সড়কটি চলাচলের 
উপযোগী করা হয়নি। ফলে সেতুটিও ব্যবহার করতে পারেনি এলাকার মানুষ।

মকিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার জানান, ধারাবারিষা আর চাপিলা ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে চাকল বিল। এই বিলে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপন্ন হয়। আশপাশের মোকিমপুর, তেলটুপি, রওশনপুর, নওপাড়া, ঝাউপাড়া ও সোনাবাজু গ্রামের কৃষকেরা এই বিলে চাষাবাদ করেন। কিন্তু মকিমপুর, জোলাগাড়ি সড়কটি পুনর্নির্মাণ না করায় পণ্য পরিবহনসহ মানুষ চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। তিন কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে ঘুরতে হচ্ছে ৭ কিলোমিটার পথ। এতে বাড়তি সময়ের পাশাপাশি ব্যয়ও বেশি হচ্ছে।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজাদ জানান, চাপিলার অন্তত ৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জেলা-উপজেলা সদর, থানা, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যোগাযোগ রক্ষা করতে হচ্ছে ৭ কিলোমিটার ঘুরপথে। এতে বাড়ছে দুর্ভোগ।

চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ইত্তেফাককে জানান, চাকল বিলের বুকচিরে বয়ে যাওয়া সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। এতে পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ তাদের চাষাবাদ এবং উৎপাদিত ফসল পরিবহনের ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস ইত্তেফাককে জানান, চাকল বিলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা যাতে সুবিধা মতো সময়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন, সে জন্য সেতু এবং সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে।