পাকিস্তান যেন ‘ফিনিক্স পাখি’

পাকিস্তান বলেই বুঝি সম্ভব! নয়তো কি। ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠার মহাকাব্য একবার নয়, বারবার লেখেছে পাকিস্তান।  ভারত ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর কজনেরই-বা তাদের নিয়ে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই পাকিস্তানই এখন টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। স্বপ্ন দেখছে দ্বিতীয়বারের মতো টি-২০-র শিরোপা উঁচিয়ে ধরার।

এজন্যই দলটির ডাকনাম ‘আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান’। যখন আশা-প্রত্যাশা কোনো কিছুই থাকবে না তখনই নিজেদের সেরা রূপে ধরা দিবে তারা।  সেজন্যই সেমিফাইনালে কোনো পাত্তা পায়নি নিউজিল্যান্ড। সিডনিতে ৭ উইকেটের হারে আরো একবার বিশ্ব আসর থেকে ভেজা চোখে বিদায় নিল কিউইরা। পাকিস্তানের দাপুটে জয়ের পেছনে অন্যতম কারিগর দুই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম।

এই ওপেনিং জুটির ওপর বড় প্রত্যাশা নিয়েই টুর্নামেন্টে এসেছিল ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সুপার টুয়েলভে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি নিজেদের। বাবর আজম তো নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন। পাঁচ ম্যাচে কেবল ৩৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু সেই বাবর জ্বলে উঠলেন সেমিফাইনালে যখন দলের সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল।  ১৫৩ রানের লক্ষ্যে রিজওয়ানকে নিয়ে গড়ে তুলেন ১০৫ রানের বড় জুটি। এরপর আর কোনো বাধার মুখে পড়েনি পাকিস্তান। পাঁচ বল হাতে রেখেই নিশ্চিত করে জয়।  বাবর  ৪২ বলে ৭ চারে ৫৩ রান ও রিজওয়ান ৪৩ বলে ৫ চারে ৫৭ রান করে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সিডনিতে টস জিতে আগে ব্যাট করলেই নাকি নিশ্চিত জয়। কিন্তু এদিন ভাগ্য প্রতারণা করল কিউইদের সঙ্গে। টস জিতে যথারীতি ব্যাটিংই নিয়েছিলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এই মাঠে সুপার টুয়েলভে দুই বার খেলে দুই বারই জিতেছিল তারা। কিন্তু কালকের ম্যাচে ফিন অ্যালেন বা গ্লেন ফিলিপস দুজনেই ছিলেন নিষ্প্র্রভ।  প্রথম ওভারেই অ্যালেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সেই মোমেন্টাম শেষ পর্যন্ত  ধরে রাখে পাকিস্তান। হাতখুলে খেলার সুযোগ দেয়নি কিউইদের। তাই উইলিয়ামসনের ৪২ বলে ৪৬ রানের  ইনিংস প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। তাকে ফেরান শাহিন।  অন্যদিকে ড্যারিল মিচেল ৩৫ বলে ৫৩ রান না করলে হয়তো দেড় শ পেরোনোও মুশকিল হয়ে যেত। ৪ উইকেটে ১৫২ রান যে  জেতার জন্য যথেষ্ট নয়, সেটা পাওয়ার প্লেতেই বুঝিয়ে দেয় পাকিস্তান। যে কারণে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে ইতিহাস তো একটু হলেও উঁকি দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস! সেবার সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। এবারও একই চিত্রনাট্য। ৯২ বিশ্বকাপের পাকিস্তানের যায় যায় অবস্থা ছিল। এবারও তাই। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পেলে তো সবকিছুই খাপে খাপ মিলে যাবে। কিন্তু ভারত তা হতে দেবে তো?