রাজশাহী আদালতে ২৬ শিশু আসামির বিকল্প সাজা

রাজশাহীতে ৩০ মামলায় ২৬ শিশু আসামিকে ১০ শর্তে ছয় মাস মেয়াদের প্রবেশন বা বিকল্প সাজা দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাব্যুনালের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এই আদেশ দেন। প্রবেশন প্রাপ্তদের ২৫ জন ছেলে ও একজন মেয়ে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসরিন আক্তার মিতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, মাদক পরিবহন ও ধর্ষণ চেষ্টাসহ ৩০টি মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিলো। এসব মামলায় আসামি ছিল ৩৭ শিশু। তাদের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলো ২৬ জন। আসামিদের সবারই এটিই প্রথম মামলা।

তিনি আরও জানান, আর কোনো দিন তারা এ ধরনের অপরাধে নিজেদের জড়াবে না। এই মর্মে প্রত্যেকে শপথ পাঠ করেছে। একই সঙ্গে তাদের দুইটি করে ভালো কাজ করার নির্দেশে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। 

এর মধ্যে রয়েছে মাদকের সঙ্গে না জড়ানো, বাল্যবিবাহ না করা, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার, মারামারিতে না জড়ানো। রায় কার্যকরের বিষয়টি সমাজসেবা প্রবেশনারি অফিসারকে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। প্রতি দুই মাস পর পর তাদের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী বছরের ১৫ মে তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পাবে।

তিনি বলেন, বিকল্প পন্থায় তাদের সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশে প্রথম এক সঙ্গে এতো বেশি শিশুকে এই রকমের দণ্ড দেওয়া হলো। তাদের মেন্টাল চেঞ্জের কারণেই এমন রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রাজশাহীর সমাজসেবা প্রবেশনারি অফিসার মতিনুর রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনালের এটি একটি ভালো আদেশ। ওই শিশুদের অপরাধের ধরণ দেখে ভালো কাজ কী কী করবে সেটি ঠিক করতে বলেছেন। 
তিনি বলেন, এটি একটি বিরল রায়। এর আগে কখনও এমনটি হয়নি। রাজশাহীতে প্রথম এই ধরনের রায়ের ব্যবহার হলো। আমার এখন তাদের মনিটরিং করবো ও তাদের আরও ভালো কাজগুলো ঠিক করে দেবো।