ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেদের জমি বিক্রি করেও চাঁদাবাজদের রোষানলে পড়ে হামলার শিকার হয়েছেন জমির মালিকরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শহরের চৌরাস্তায় ভুক্তভোগী জমির মালিকগণ মানববন্ধন করেন।
মানবন্ধনে জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, ‘নিজেদের জমি বিক্রি করতে হামলার শিকার হচ্ছেন চাঁদাবাজদের হাতে। তাদের নিজস্ব জমিকে খেলার মাঠ দাবি করে নানা রকম ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে চাঁদাবাজরা। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চান তারা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।’
মানববন্ধনে জমির মালিক জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, ‘আমি অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না । খাদ্যনালীতে ঘাঁ ও হার্টের দুটি ভাল্ব নষ্ট হওয়ায় ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে নিজের জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ সেটিকে খেলার মাঠ দাবি করে দখল নিতে দিচ্ছে না। জমিটি যে ব্যক্তিমালিকানাধীন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি কোনো খেলার মাঠ বিক্রি করিনি। আজ আমার পরিবার নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি, সুষ্ঠু সমাধান দিন।’
আরেক মালিক নুরুল হুদা বলেন, যে জমিটি খেলার মাঠ দাবি করা হচ্ছে সেটি আসলে আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি। সরকারের কোনো নথিতে সেটি খেলার মাঠ বলে উল্লেখ নেই। কিন্তু স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারীকে চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের হামলা করেছে। জমি দখলে নিতে দিচ্ছে না। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন করছি।’
জমির ক্রেতা সজল চৌধুরী বলেন, ‘আমি যে জমি কিনেছি সেটা কোনো খেলার মাঠ নয়, ব্যক্তিমালিকানা জমি। আমি জমি ক্রয়ের পর সেখানে সাইনবোর্ড টাঙাতে গেলে ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমি টাকা না দেওয়ায় আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। চাঁদাবাজরা জমিটিকে খেলার মাঠ দাবি করছে। কিন্তু কাগজে কলমে কোথাও সেটি খেলার মাঠ উল্লেখ নেই। আমরা বিচার চাই।’
ইউএনও আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি পক্ষ আমার কাছে এসেছিলো। এটি নিয়ে মামলা চলমান। এখনো শুনানি হয়নি। জমিটি সরকারি রেকর্ডে খেলার মাঠ বলে কোথাও উল্লেখ নেই।’