আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস

দুর্নীতি বন্ধ না হলে রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মুখে পড়বে: বাংলাদেশ ন্যাপ

দুর্নীতি বন্ধ না হলে রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি।

বাংলাদেশ ন্যাপ নেতাদের অভিমত, দেশ ও দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে হলে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতি নামের পাগলা ঘোড়া থামাতেই হবে। দুর্নীতির কালো প্রভাবে দেশ-সমাজ-রাষ্ট্র ক্ষত-বিক্ষত। তাই দুর্নীতি বন্ধ না হলে রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।

নেতারা বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় সমস্যা। দেশের উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সুশাসন ও সার্বিকভাবে ইতিবাচক সমাজ পরিবর্তনের পথে দুর্নীতি এক কঠোর প্রতিবন্ধক।

তারা বলেন, দেশের জাতীয় সমস্যা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। শুধু দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিয়ে সম্ভব নয়, এ জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা, দেশপ্রেম রাজনৈতিক এবং তারুণ্যের অঙ্গীকার। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, তরুণ ও যুবকদেরই দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নেতারা বলেন, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের প্রত্যয়, দর্শন, প্রত্যাশা ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে দুর্নীতির মাত্রা এবং কারণ নিয়ে দ্বিমত থাকলেও এর প্রতিরোধের বিষয়ে কারও কোনো ভিন্নমত থাকার কথা নয়। এ ছাড়া সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে সুখী-সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।

‘আমাদের সমাজে দুর্নীতি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে৷ কারণ হলো, দুর্নীতির সংজ্ঞা আমরা নিজেদের মতো করে পাল্টে নিয়েছি। সমাজের প্রতিটি স্তরেই যার যেটুকু ক্ষমতা আছে, সেটি ব্যবহার করেই অন্যায় পথে অর্থ বা সুবিধা অর্জনকে আমরা এখন রীতিমতো ‘অধিকার' বলে মনে করছি।’ 

তারা বলেন, আত্মশক্তি বিকাশের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম তথা যুব-সমাজ রুখে দাঁড়ালে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে বাধ্য। এ জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-জীবনের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি বিষয়ক সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে দুর্নীতি দমনের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে আন্তঃধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই দুর্নীতিকে ‘না’ বলার প্রত্যয় দীপ্ত অঙ্গীকার সামনে রেখে সর্বাত্মক নৈতিকতা চর্চার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।