চীনা মুদ্রায় তেল কেনার প্রস্তাব দিলেন শি জিনপিং

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মেলনে তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যদি ইউয়ানে এই লেনদেন হয় তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে চীনা মুদ্রা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের প্রভাব দুর্বল হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রিয়াদে সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আয়োজিত আরব সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এই সফরে শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন নিজেদের সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ় করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। মানবাধিকার, জ্বালানিনীতি ও রাশিয়া ইস্যুতে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা যাচ্ছে তখন দুই দেশ একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ প্রতিশ্রুতির কথাও জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল বাণিজ্যে সৌদি আরব যদি ডলার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা হবে ‘ভূমিকম্পের’ মতো একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন হুমকি দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদির পক্ষে এমন পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে না। কারণ সৌদির নিরাপত্তাসহ অনেক কিছুতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভূমিকা পালন করে।

শুক্রবার উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা শি জিনপিংকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। আলোচনার শুরুতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। চীনা প্রেসিডেন্টকে রাজকীয় অভ্যর্থনা দেওয়ার আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সৌদি আরব সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে। আমরা মেরুকরণ বা পক্ষ বেছে নেওয়া পছন্দ করি না। শি জিনপিংয়ের সফলে সৌদি আরব ও চীন বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের ভিত্তি হলো মূলত জ্বালানি স্বার্থ। অবশ্য চীনা প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করছে।

রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ সম্মেলনের আয়োজন করেন। চীনা প্রেসিডেন্টের সৌদি সফরের আগে রিয়াদের একটি সূত্র জানিয়েছিল, ইউয়ানে অল্প মাত্রায় তেল বিক্রি করার বিষয়টি এখন পরীক্ষানিরীক্ষার সময় এসেছে। সম্প্রতি ওপেক তেলের উৎপাদন দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল কমানোর ঘোষণা দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি হয়। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করেছে।