শাহজাদপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭ ঘর বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪টি ঘরের মধ্যে ৭টি ঘর অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কিনে নেওয়া ব্যক্তিরা এখন ওই ঘরগুলিতে বহাল তবিয়তে বসবাস করছে। ফলে ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে ইতোমধ্যেই অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানায়, জনপ্রতি ২ শতক জমি ও প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকার ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ ঘর বিক্রি করেছেন মাত্র ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকায়। এছাড়া ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় ভুল মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। যাতে বরাদ্দ প্রাপ্তদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে না পারে। তাদের অভিযোগ ঘর বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন। ফলে বরাদ্দপ্রাপ্তরা এ ঘর বিক্রি করতে সাহস পেয়েছেন।

এ বিষয়ে সরজমিনে ঘুরে জানা দেখা যায়, এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম। কিন্তু স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই ঘরটি ১লাখ টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন মোছা. সিরিনা বেগম ও তার পরিবার। ১০নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন বেল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী ছারা খাতুন। কিন্তু এ ঘর ৮০ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন মো. আনু ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম। ৮নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন রশিদ দম্পতি। তার ওই ঘরে বসবাস করছেন জাহের ও তার পরিবার। ৯নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন ঠান্ডু দম্পতি। কিন্তু এ ঘর ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন পিঞ্জিরা খাতুন ও তার সন্তানেরা। ১৩নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মোছা. ফুলমালা। তাদের কাছে থেকে ১লাখ টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন নাজমুল ও তার পরিবার। ১৬নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন বিধবা রেশমা খাতুন। এ ঘর ১ লাখ টাকায় কিনে এখানে বসবাস করছে হাফিজুল ও তার স্ত্রী নাছিমা খাতুন। ১৭নম্বর ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন জহুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগম। এ ঘর ১লাখ ১১ হাজার টাকায় কিনে এখানে হালিমা বেগম ও তার পরিবার বসবাস করছেন।

এ সব ঘরে বসবাসকারী ব্যক্তিরা টাকা দিয়ে ঘর কিনে বসবাস করার কথা স্বীকার করে তারা বলেন, আমাদের কোন বাড়িঘর নাই। আবেদন করেও আমরা ঘর বরাদ্দ পাইনি। তাই নিরুপায় হয়ে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির কাছে থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ঘর কিনে বসবাস করছি।

এ ঘর বিক্রির বিষয়ে ১৪নম্বর ঘরের বরাদ্দ পাওয়া আব্দুস সালামের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঘর বিক্রির একটি টাকাও আমরা পাইনি। 

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রদান করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে পুনরায় এই ঘর গুলো বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।