ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বছরের শুরুতে রাশিয়া বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দেশটির ঊর্ধ্বতন জেনারেলরা বলছেন, পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে, দক্ষিণে, এমনকি রাজধানী কিয়েভ অভিমুখেও এসব অভিযান হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসেই রেজনিকফ মনে করছেন, নতুন বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই অভিযান শুরু হতে পারে- যখন রুশ সেনাবাহিনীতে সংগৃহীত তিন লাখ সৈন্যের অর্ধেকের প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যাবে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্যা গার্ডিয়ানকে রেজনিকফ বলেন, “জয়ের জন্য ক্রেমলিন নতুন রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করছে।” তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থলপথে রাশিয়ার সফল অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা ক্রমশই দুর্বল হয়ে আসছে।
ব্রিটেনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন বলেছেন, মস্কোর জন্য এই যুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে পড়বে কারণ তাদের গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে আজ শুক্রবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামালা চালিয়েছে। রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও হামলা চালানো হয়েছে উত্তরের খারকিভ, দক্ষিণের ওডেসা এবং মধ্যাঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ শহরে।
কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী বলছেন, সারা দেশে প্রায় ন’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আক্রমণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন, দেশটির বিভিন্ন শহরে আজ ৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউরি সাক বিবিসিকে বলেছেন, এসব হামলা আকস্মিকভাবে ঘটেনি। এর ব্যাপারে আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্ক করে দিচ্ছিলাম এবং এসব হামলাই শেষ নয়।