মৃত বলে চিহ্নিত ব্যক্তিরা এলেন ভোটার তালিকায়

এবারের হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে খুশি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের অর্ধশতাধিক মৃত ভোটার। গত পাঁচ বছর ধরে এ এলাকার এসব ভোটার জীবিত থেকেও ভোটার তালিকায় ছিলেন মৃত। ফলে দেশের নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা। এবারের হালনাগাদ তালিকায় এসব ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদকাজে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের ভুল তথ্য সংগ্রহের কারণে এমন বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ধাপে হালনাগাদকৃত এ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নতুন প্রায় ২১ হাজার ১২ জন ভোটার। এদের অধিকাংশই তরুণ। এ তালিকায় ৫ হাজার ৬২৭ জন মৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে স্থানান্তরিত ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২৭৯। ২০১৭ ও ২০১৯ সালের হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় ৫৯ জন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়।

আগের ভোটার তালিকায় মৃত থাকা উপজেলা সদরের দিশাবন্ধ গ্রামের কৃষক হেদায়েত উল্ল্যাহ, নাথেরপেটুয়া ইউপির বিনয়ঘর গ্রামের আব্দুল গফুর, ঝলম (উত্তর) ইউপির দেবপুর গ্রামের ইউসুফ, বাইশগাঁও ইউপির দাদঘর গ্রামের মনোয়ারা বেগমসহ অনেকেই এ তালিকায় নতুন করে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার কথা জানান। কৃষক হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ‘জীবিত থেকেও গত পাঁচ বছর ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবেই ছিলাম।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও হারিয়েছি। আমি গরিব মানুষ, দিনে আনি দিনে খাই। তথ্য সংগ্রহকারীদের ভুলের খেসারত আমাকে দিতে হয়েছে গত পাঁচ বছর। এ দেশের নাগরিক হয়েও সরকারি কোনো সুবিধা ভোগ করতে পারিনি। বঞ্চিত হয়েছি করোনার ভ্যাকসিন থেকেও।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজির হোসেন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তথ্য সংগ্রকারীদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে অর্ধশতাধিক ভোটার মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এবার হালনাগাদকৃত নতুন তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।