অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণের পর এর উদ্বোধন করা হয় গত ৭ নভেম্বর। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলাবাসী যারপর নাই আনন্দিত হয়েছে। এটি নির্মিত হওয়ায় সুনামগঞ্জের সঙ্গে সড়কপথে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার কমে গেছে। কিন্তু সাড়ে ৩ কিলোমিটার সরু সড়ক ও দুটি দুর্বল বেইলি ব্রিজের কারণে সুনামগঞ্জবাসী এর পুরোপুরি সুফল পাচ্ছে না।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। এতে ব্যয় হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা। গত ৭ নভেম্বর মহাসমারোহে উদ্বোধন করা হয় সেতুটির। এদিন থেকেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সেতুটি। কিন্তু উদ্বোধনের এক মাস পার হলেও জগন্নাথপুর-হবিগঞ্জ সড়কে চলছে না ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস। কিছু পণ্যবাহী যানবাহন এবং ছোট ছোট গাড়ি চলাচল করলেও সরু সড়ক ও দুটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু থাকায় এই রুট ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাণীগঞ্জ সেতুটি চালু হওয়ার ফলে ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার দূরত্ব কমেছে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। সেতুটি চালু হলেও রাজধানীতে যেতে গণপরিবহনের যাতায়াত সুগম হয়নি। সময় ও খরচ কমার সুবিধাও সাধারণ যাত্রীরা পাচ্ছেন না। যাত্রীদের আগের মতোই সিলেট হয়ে ঘুরে যেতে হয় রাজধানীতে।
সুনামগঞ্জের পাগলা-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ওপর রাণীগঞ্জ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সওজের চুক্তি অনুযায়ী ৭০২ দশমিক ৩২ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ শেষ হয় ছয় বছরে। চলতি বছর ৭ নভেম্বর খুলে দেওয়া হয় সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্নের বহু কাঙ্ক্ষিত রাণীগঞ্জ সেতু।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুরের সড়কে রাণীগঞ্জ সেতুসহ ৩৬ কিলোমিটার অংশ সুনামগঞ্জ জেলার সীমানায় এবং বাকি ১০ কিলোমিটার হবিগঞ্জ জেলার সীমানায় পড়েছে। এই সেতু ও সড়ক আন্তঃজেলা বাসসহ মালবাহী ট্রাক, কার্গো চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রথম দুই দিন এই সড়কে বড় যানবাহন চললেও সাড়ে ৩ কিলোমিটার সরু সড়ক ও দুটি বেইলি ব্রিজের কারণে এই পথ ব্যবহার করছেন না বড় যানবাহনের চালকরা।