দেশের উত্তরাঞ্চলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। তাপমাত্রা কমে আসায় শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারদিক। ফলে জরুরি প্রয়োজনে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়। শীতের কারণে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে মানুষ। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছর এই দিনে রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কদিন ধরেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে এসেছে। এ অঞ্চল হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছাকাছি থাকায় শীতের মাত্রাও একটু বেশি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীত নেমে আসে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শীত অনুভূত হয়। দিনেও আগের মতো গরম নেই। বিকাল গড়ালেই ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করে। এতে করে হাড় কাঁপানো শীত পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কনকনে শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেকেই। তবে পেটের তাগিদে কাউকে নদীতে পাথর তুলতে, কাউকে চা-বাগানে আবার কাউকে দিনমজুরের কাজ করতে যেতে দেখা গেছে।
চা-শ্রমিক মমিন, হাসান ও নজরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সকালে চা-বাগানের পাতা তুলতে গিয়ে হাত-পাতা অবস হয়ে আসে। তার পরও কাজ করতে হচ্ছে। পাথরশ্রমিক আমেনা, রাহেলা ও নাসরিনসহ কয়েকজন নারী শ্রমজীবী নারী জানান, আমরা ফজরের আজানের পর পরই ঘুম থেকে উঠি। কদিন ধরে খুব ঠাণ্ডা। ভোরে উঠে ঘরের মেঝে, আসবাব সব বরফের মতো লাগে। তার পরও কাজ শেষ করে পেটের দায়ে পাথরের কাজে যেতে হচ্ছে। এদিকে দিন-রাতে তাপমাত্রা দুই রকম থাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।
চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর চাপ বেড়েছে। এমনিতে শীত মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ হিসেবে সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট বেশি হয়ে থাকে। আর শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হন। তাই এ সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে কিছুটা হলেও সুরক্ষা মিলবে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, তাপমাত্রা অনেকটা কমেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সামনে তাপমাত্রা আরও নিচের দিকে নামতে পারে বলে তিনি জানান।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শীতের তীব্রতায় চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃহস্পতিবার উপজেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা গত ২৪ ঘণ্টায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারদিক। ফলে জরুরি প্রয়োজনে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়। শীতের কারণে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর আধিক্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমন কান্তি সাহা জানান, শীত বাড়লেও ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। আমরা শীতজনিত রোগীর সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুহিন মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।