বরগুনার বেতাগী উপজেলায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্লের নির্মাণ সামগ্রী চুরির মামলার আসামি পেলেন ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। এনিয়ে উপজেলায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়।
জানা যায়, বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বেতাগীতে সরকারি আবাসনের মালামাল চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এই মামলার দ্বিতীয় আসামি ছিলেন তিনি।
অভিযোগ করে এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য মনিরের দাপটেই সরকারি ঘর পেয়েছেন শহীদুল। এলাকার অন্য একজন নারীর ভোটার আইডি কার্ড জালিয়াতি করে ঘরের নাম দেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মনির। পরে সেই ঘরের দখল বুঝিয়ে দেন তার সহচারী শহিদুলকে। এছাড়া আবাসনের মালামাল চুরির ঘটনায় মামলার একদিন পরই দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মনির সিকদার ও শহিদুল সিকদার।
বেতাগী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন জানান, আশ্রয়ন প্রকল্প ও মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। আবাসনের মালামাল চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ইউপি সদস্য মনির ও শহিদুল। সেখানে শহিদুল কীভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্যেও ঘর পেয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, কোনো স্বচ্ছল পরিবার বা ব্যক্তি যদি মুজিববর্ষের ঘর পেয়ে থাকে সেটি বাতিল করা হবে। একইসঙ্গে আবাসানের মালামাল চুরির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনের পর ওই ইউপি সদস্যর পদ বাতিল করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে।
উল্লেখ্য, বরগুনার বেতাগীতে সরকারি আবাসনের মালামাল চুরি করে বিক্রি করারঅভিযোগ ইউপি সদস্য মো. মনির ও শহিদুল সিকদারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা।
১৫ দিন ধরে সেখানকার পুরানো টিন, লোহার এঙ্গেল ভেঙে আবাসনের জায়গায় জমা রাখা হয়। বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর
ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনির সিকদার ওইসব মালামাল পিকআপ ভ্যানে তুলে লোকজনের অগোচরে বাকেরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডের কাছের এনায়েত হোসেনের ভাঙারি দোকানে বিক্রির জন্য নিয়ে যান।