সিলেটের আরপিজিসিএল প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ, মাসে লোকসান সাড়ে ৩ কোটি টাকা

সিলেটের জ্বালানি তেল পেট্রোল ও ডিজেল এবং এলপি গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্ট (আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট)-এর উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে সাড়ে ৩ কোটি টাকা লোকসান যাচ্ছে। তবে অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর পর প্ল্যান্টটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এ লক্ষ্যে গত শনিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি টিম আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছেন। আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট উৎপাদনে যাবে এমন খবরে গোলাপগঞ্জ তথা সিলেটের অধিবাসীরা আশার আলো দেখছেন।

গোলাপগঞ্জ খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ইউনুস চৌধুরী বলেছেন, ‘গত দুই বছর থেকে এটা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছি জাতীয় সম্পদ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে। যা-ই হোক দেরিতে হলেও এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে শুনে ভালো লাগছে।

ঐ টিমের প্রধান, জ্বালানি ও খণিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব  হাফিজুর রহমান বন্ধ থাকা প্ল্যান্ট সম্পর্কে বলেন, সমস্যা থাকতেই পারে—এর সমাধানও বের করতে হবে। সচিব বলেন, সরকারের উন্নয়ন খাতে বিঘ্ন ঘটে এবং বছরের পর বছর অচলাবস্থার মধ্যে থাকবে কোনো প্রতিষ্ঠান—তা হতে পারে না। তিনি বলেন, সবকিছুতে বর্তমান সরকারের সফলতা রয়েছে। আশা করি, এই প্ল্যান্ট চালুর ব্যাপারেও সফল হব। সূত্র মতে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদর এলাকায় জ্বালানি তেল পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপি গ্যাস উৎপাদনকারী কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। গোলাপগঞ্জের দাড়িপাতনস্থ কৈলাশটিলা এমএসটিই গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে উত্তোলিত এনজিএল (ন্যাচারাল গ্যাস লিকুইড) কাজে লাগাতে পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি.) প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়।

কৈলাশটিলা এমএসটিই গ্যাসফিল্ডের খনি থেকে উত্তোলিত এনজিএল (ন্যাচারাল গ্যাস লিকুইড) থেকে পেট্রোল ও এলপি গ্যাস এবং খনিজ গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন করে কৈলাশটিলা আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট। প্রতিষ্ঠানটি পেট্রোল ও ডিজেল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসিকে এবং এলপি গ্যাস এর পাশেই স্থাপিত এলপি গ্যাস বটলিং কারখানায় সরবরাহ করে।

সূত্র জানায়, আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট দৈনিক ১ লাখ লিটার পেট্রোল উৎপাদন করে থাকে। ২০-২৫ হাজার লিটার ডিজেল এবং ১৫-১৭ মেট্রিক টন এলপি গ্যাস উৎপাদন করে। পেট্রোল, ডিজেল ও এলপি গ্যাস উৎপাদন থেকে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয় ৪০-৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ। সূত্র মতে, বিপিসি একটি নির্দিষ্টমানের নিচে পেট্রোল ক্রয় করবে না মর্মে অজুহাত দেখালে তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবশ্য সিলেট পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বিপিসির এহেন সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।

এদিকে, আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরপিজিসিএলের উৎপাদিত এলপি গ্যাসের উপর নির্ভর করে স্থাপিত এলপি গ্যাস বটলিং কারখানাও  বন্ধ হয়ে পড়ে। একই কারণে গোলাপগঞ্জের দাড়িপাতনস্থ কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ড প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এনজিএল পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সূত্র জানায়, এনজিএল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় একে সরাসরি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে পাঠাতে হয়, অন্যথায় পুড়িয়ে ফেলতে হয়।  আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট এনজিএল থেকে উৎপাদন করে পেট্রোল ও এলপি গ্যাস। এখন আরপিজিসিএল প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় গ্যাসফিল্ড এনজিএল পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।