ইরানের ফুটবলার আলি দায়েই বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করেছিলেন। তাই দুবাই যেতে পারল না তার পরিবার। মাঝআকাশ থেকেই ঘোরানো হলো বিমান।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে দুবাইয়ের বিমানে উঠেছিলেন আলির স্ত্রী ও মেয়ে। বিমান ছেড়ে দেওয়ার পর মাঝআকাশে কোনো ঘোষণা ছাড়াই যাত্রাপথ বদল করা হয়।
পারস্য উপসাগরের কিশ দ্বীপে নামানো হয় প্লেনটি। বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় আলির স্ত্রী ও মেয়েকে। কেন তারা বিদেশে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করে ইরানের কর্তৃপক্ষ।
আলি জানিয়েছেন, তার স্ত্রী ও মেয়ের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাদের শেষ পর্যন্ত দুবাই যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আলি ও তার স্ত্রী সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
এর আগে আলির পাসপোর্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ২২ বছরের তরুণী মাহশা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হওয়ার পর ইরানজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। বহু বিখ্যাত ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
আলি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সরকারের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। সমস্যার সমাধান করা উচিত। শক্তি প্রয়োগ করা উচিত হচ্ছে না। এরপরেই আলির পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে অবশ্য তা ফেরত দেওয়া হয়। তার রেস্তোরাঁ ও গয়নার দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইরানের সরকারপন্থি সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, আলির স্ত্রীর বিরুদ্ধেও আন্দোলনকারীদের সমর্থনের অভিযোগ আছে। সরকারকে না জানিয়ে তারও বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। সে কারণেই তাকে বিমান থেকে নামানো হয়েছে।
সরকার দমনমূলক নীতি নিলেও ইরানের আন্দোলন সমানতালে চলছে। প্রতিদিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ মানুষ। সাহিত্য, সংগীত, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে তাদের উপরেও শাস্তির খাঁড়া নেমে আসছে। আলির পরিবারের সঙ্গে সম্প্রতি সেই ঘটনাই ঘটেছে।