চাষিরা উৎপাদিত আখ সরবরাহ না করায় বন্ধ হতে বসেছে নাটোর চিনিকল। চিনিকলের আওতাভুক্ত জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ আখ রয়েছে। কিন্তু সে আখ চলে যাচ্ছে গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে। চাষিরা প্রতি মণ আখের জন্য গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে পাচ্ছেন ২৫০ টাকা। অন্য দিকে এক মণ আখ চিনিকলে দিয়ে পাওয়া যায় ১৮০ টাকা। গত ২ ডিসেম্বর নাটোর চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু হয়। আর এর ৩০ দিনের মাথায় আখসংকটে পড়েছে মিলটি।
সরজমিনে চিনিকলের আওতাভুক্ত বাগাতিপাড়া, আহমেদপুর, দস্তানাবাদ, ঝলমলিয়া, জিগরীপুর, তমালতলা, মালঞ্চি, ফাগুড়াদিয়া, কালিকাপুর, দহপাড়া, জামনগরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের চাষিদের জমিতে প্রচুর আখ দেখা গেছে। জমি থেকে বেশি দামে চাষিরা গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করছেন। সরাসরি পাওয়ার ক্রাশারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসব আখ। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে গুড় উৎপাদন করা হচ্ছে। নাটোর চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ২০ ভাগ। এদিকে চিনিকলের মাড়াই দিবস ধরা হয়েছিল ৫৪ দিন। কিন্তু চাষিরা আখ সরবরাহ না করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।
আখ চাষি মো. আশরাফ আলী বলেন, নাটোর চিনিকলে আখ সরবরাহ করলে মণ প্রতি ১৮০ টাকা দেয়। আর গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করে আমরা প্রতিমণ ২৫০ টাকা পাচ্ছি। চিনিকলে আখ দিলে মণ প্রতি ৭০-৮০ টাকা লোকসান হয়। যার কারণে আমরা চিনিকলকে না দিয়ে গুড় ব্যবসায়ীদের আখ সরবরাহ করছি। এছাড়া চিনিকলে আখ সরবরাহ করলে টাকা তুলতে অনেক সময় লাগে। যদি মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে টাকা প্রদান করত কর্তৃপক্ষ তাহলে টাকা উত্তোলন সহজ হতো। মো. হোসেন আলী নামে আরেক আখচাষি বলেন, এক গাড়ি আখে নাটোর চিনিকল দাম দেয় ৫ হাজার টাকা। অন্য দিকে গুড় ব্যবসায়ীরা আমাদের ৭ হাজার টাকা দিচ্ছেন। তাহলে কেন আমরা লোকসানে চিনিকলে আখ সরবারহ করব?
কালিকাপুর কেন্দ্রের সিডিএ মেহেবুব ইসলাম রনি বলেন, আখচাষিরা বেশি দামে জমি থেকে গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে আখ সরবারহ করছেন। আমরা আখচাষিদের বারবার বলার পরও তারা আখ সরবরাহ করছেন না। নাটোর চিনিকলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফিরোজ আলী বলেন, নাটোর চিনিকলের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে কল ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে আখ কিনছেন। প্রতিমণ আখ ২৫০ টাকায় জমিতে থেকে কল ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে নাটোর চিনিকল আখসংকটে পড়েছে।
নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, নাটোর চিনিকল এলাকায় প্রচুর অবৈধ পাওয়ার ক্রাশার কল রয়েছে। তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে আখ কিনছেন। অনেক সময় তারা আখের জমি অগ্রিম কিনে রাখছেন। ফলে আখসংকটে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।