নওগাঁর রাণীনগরের কথিত কাজি বেলাল হোসাইন একের পর এক অবৈধ বিবাহ রেজিস্টারের কাজ করে আসছেন। এতে করে পরবর্তীতে কাজি বেলালের কাছে সম্পন্ন করা বিবাহ রেজিস্ট্রার করা উভয় পক্ষরা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যার সমাধান হচ্ছে আদালতে মামলার মাধ্যমে।
কাজি বেলাল হোসাইন উপজেলার ২ নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রারকারী হিসেবে নিজেকে দাবি কলেন। কিন্তু তিনি নওগাঁ জেলা ও তার আশেপাশের যে কোনো স্থানের অবৈধ বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাজ করে আসছেন। এমনটিই অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি একটি যৌতুক মামলাকে কেন্দ্র করে দেনমোহর জালিয়াতি করার অভিযোগে বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে পিবিআইকে রহস্য উদঘাটনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ৩ নম্বর গোনা ইউপির বিদ্যুৎ-এর মেয়ে সুইটি বানুর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে ইসলামি শরিয়ত অনুসারে আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউপির মগড়াপাড়া গ্রামের মববুল হোসেনের ছেলে জেকের আলীর (৩৫) সঙ্গে ২০২১ সালের মে মাসে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হয়। সংসার জীবনে উভয়ের মধ্যে বনিবনা না হওয়ার এক পর্যায়ে নওগাঁর ১০ নম্বর আমলী আদালতে জেকের আলীর বিরুদ্ধে যৌতুক একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় দেখা যায়, কথিত নিকাহ রেজিস্ট্রার দাবিকারী বেলাল হোসাইন স্বাক্ষরিত সরবরাহকৃত সার্টিফাইড কপিতে মেয়েকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার দেনমোহর সম্বলিত কাবিননামা আর আসামি পক্ষ জেকের আলীকে দিয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উভয় পক্ষের কাবিননামার মধ্যে মিল না থাকায় গভীর রহস্য ও ষড়যন্ত্র আছে বলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. ফয়সাল আহমেদ দেনমোহর জালিয়াতির রেজিস্ট্রার দাবিকারী বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে নওগাঁর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টগিকেশন (পিবিআই) কে রহস্য উদঘাটনের নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল বলেন, মহামান্য আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আমি মামলার তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। দ্রুতই তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিবো।
দেনমোহর জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে নিকাহ রেজিস্ট্রারকারী বেলাল হোসাইনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২ মে নওগাঁর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টগিকেশন (পিবিআই) এর পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম পেনাল কোডের ৪৬৪/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/৩৪ ধারায় নওগাঁর ১০ নম্বর আমলী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।