কৃষক-কৃষাণীদের শীতকালীন ফসল উৎসবে মাতলো সবাই

মানিকগঞ্জের ঘিওরে শীতকালীন ফসল উৎসব ও কৃষি উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের সাইংজুরী-রামেশ্বরপট্টি খেলার মাঠে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে মেলা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

মেলায় স্থানীয় অর্ধশত কৃষক-কৃষাণীরা তাদের উৎপাদিত শত প্রকার ফসল, ফল-ফুল, ঔষধি গাছ, গবাদিপশু, বিলুপ্তপ্রায় চাল ও মধু প্রদর্শণ করেন। এছাড়া পৌষের বাহারি পিঠা-পায়েস, কাঁচা খেজুর রস ও দেশীয় আদি সংষ্কৃতির উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। উপজেলার কাউটিয়া গ্রামে অবস্থিত প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্র ও প্রাণবৈচিত্র খামারের কৃষক-কৃষাণীরা এ মেলার আয়োজন করেন।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। ছবি: ইত্তেফাক

প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সকালে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাহেলা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মতিন দেওয়ান, সমাজসেবক দেওয়ান রাজা, কৃষি খামারের প্রশিক্ষক ইফতেখার আহমেদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য লেবু মিয়া, কৃষি উদ্যোক্তা আল আমিন, রফিকুল ইসলাম নওশাদ, প্রান্তিক কৃষক ধনী আহমেদ, সোনাই মিয়া, মো. তারা, মোতালেব হোসেন, কালাচাঁদ মিয়া প্রমুখ।

মেলায় শত প্রকার ফসল, ফল-ফুল, ঔষধি গাছ, বিলুপ্তপ্রায় চাল ও মধু প্রদর্শণ করা হয়। ছবি: ইত্তেফাক

অনুষ্ঠানে স্থানীয় চাষীদের অংশগ্রহণে রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত ফসলের প্রদর্শণী, নিরাপদ ফসল বিক্রি, সবার জন্য দুপুরের খাবার, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রকৃতি চেনা প্রতিযোগিতা, পৌষের পিঠা-পায়েস উৎসব ও কৃষি সঙ্গীত ধুইয়া জারি, লালনগীতি, পল্লীগীতি গানের আয়োজন ছিল বেশ প্রাণবন্ত।

মেলায় প্রাণবৈচিত্র খামার, গাঁয়ের দোকান, আদর্শ খামারি, গ্রাম গবেষণা, কৃষি পাঠাগার, যৌথ খামার, হোসনে আরার মাটি বাঁচাও খামার, রাজিয়ার নকশি কাঁথা, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও কৃষি দৃশ্যসহ ৩০টি স্টল বসে। পরে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রকৃতি চেনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

কৃষক-কৃষাণীদের শীতকালীন ফসল উৎসব । ছবি: ইত্তেফাক

মেলা দেখতে আসা ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মনোয়ারা সুলতানা মীরা বলেন, মেলায় এসে তৃণমূলের কৃষক-কৃষাণীদের উৎপাদিত ফসল এবং নাম না জানা অনেক গাছপালার সাথে পরিচিত হতে পেরেছি। আমার খুবই ভালো লেগেছে। মেলা থেকে সরিষার তেল, লাল আমন চাল, হাতে তৈরি মোয়া ও মধু কিনেছি।

স্থানীয় সাইংজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লাবিব বলে, আমরা ১৫ জন শিক্ষার্থী মিলে আমাদের গ্রামের প্রকৃতি ও কৃষি পণ্যের ছবি এঁকেছি। এসব ছবি নিয়ে আমাদের প্রকৃতি ও কৃষি দৃশ্য নামে স্টল নিয়েছি। আমাদের স্টল দেখে সবাই প্রশংসা করেছেন।

কৃষক-কৃষাণীদের শীতকালীন ফসল উৎসব। ছবি: ইত্তেফাক

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফসলের ক্ষেতে অব্যাহত রাসায়নিক সার ও বিষের দূষণে মাটি, জল, বাতাস, খাদ্য বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। বিষের দূষণ থেকে মুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিতে গত দুই বছর নিরাপদ ফসল উৎপাদন শুরু করেছেন সাইংজুরী রামেশ্বরপট্টি গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা। তাদের উৎপাদিত নিরাপদ ফসল প্রদর্শনী, পরিচিতি ও বিক্রয়ের জন্য শীতকালীন ফসলের এই উৎসব।