শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system)ঃ
যে অঙ্গগুলোর সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালিত হয় তাদেরকে একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে। নিম্নলিখিত অঙ্গগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত। যথা-
১। নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ
২। গলবিল
৩। স্বরযন্ত্র
৪। শ্বাসনালী/ট্রাকিয়া
৫। ব্রঙ্কাস
৬। ফুসফুস
৭। মধ্যচ্ছদা
নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ ঃ
নাসিকার সম্মুখে এবং মুখগহবরের উপরে অবস্থিত ত্রিকোণাকার গহবর। নাসারন্ধ্র থেকে গলবিল পর্যন্ত নাসাপথ অবস্থিত। এর সামনের অংশ লোমে আবৃত এবং পশ্চাত্ অংশ শ্লেষা যুক্ত পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত।
কাজ: ১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধুলিকণা, রোগজীবানু লোমে আটকে যায়।
২। বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে এখান থেকে কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়।
৩। নাকের সাহায্যে কোনো বস্তুর সুগন্ধ বা দূর্গন্ধ বোঝা যায়।
গলবিল (Pharynx):
নাসাপথের পশ্চাত্ভাগ থেকে স্বরযন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত নালী বিশেষ। এর পশ্চাত্ ভাগের উপরিতলে জিহবার মতো ছোট অংশ থাকে, একে আলা জিহবা বলে।
স্বরযন্ত্র (Larynx) :
এটি গলবলের নিচে ও শ্বাস নালীর উপরে অবস্থিত। এর দুই পাশে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে। এর উপরে একটি জিহবা আকৃতির ঢাকনা থাকে একে এপিগ্লটিস বলে।
কাজ: ১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় এপিগ্লটিস খোলা থাকে ফলে বাতাস এ পথে ফুসফুসে যায়।
২। খাবার গ্রহণের সময় এটি স্বরযন্ত্রের মুখ ঢেকে দেয়।
শ্বাসনালী (Trachea):
স্বরযন্ত্রের নিচের অংশ থেকে একটি ফাপা নলের সৃর্িষ্ট হয়েছে একে শ্বাসনালী বলে। এর প্রাচীর কতক গুলো অর্ধ বলয়াকার তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত। এর অন্ত:প্রাচীরে সুক্ষ্ম লোম যুক্ত মিউকাস আবরণী থাকে।
কাজ: অপ্রয়োজনীয় বস্তুর প্রবেশ রোধ করে।
ব্রঙ্কাস (Bronchus):
শ্বাসনালী ফুসফুসের নিকটবর্তী এসে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে ডান ও বাম ফুসফুসে প্রবেশ করে। এদের কে ব্রঙ্কাই বলে। প্রতিটি ব্রঙ্কাস আবার অসংখ্য শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এগুলোকে ব্রঙ্কিওল / অনুক্লোম শাখা বলে।