এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি-২০১৯

শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system)ঃ

 যে অঙ্গগুলোর সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালিত হয় তাদেরকে একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে। নিম্নলিখিত অঙ্গগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত। যথা-

১। নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ

২। গলবিল

৩। স্বরযন্ত্র

৪। শ্বাসনালী/ট্রাকিয়া

৫। ব্রঙ্কাস

৬। ফুসফুস

৭। মধ্যচ্ছদা

নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ ঃ

নাসিকার সম্মুখে এবং মুখগহবরের উপরে অবস্থিত ত্রিকোণাকার গহবর। নাসারন্ধ্র থেকে গলবিল পর্যন্ত নাসাপথ অবস্থিত। এর সামনের অংশ লোমে আবৃত এবং পশ্চাত্ অংশ শ্লেষা যুক্ত পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত।

কাজ: ১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধুলিকণা, রোগজীবানু লোমে আটকে যায়।

২। বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে এখান থেকে কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়।

৩। নাকের সাহায্যে কোনো বস্তুর সুগন্ধ বা দূর্গন্ধ বোঝা যায়।

গলবিল (Pharynx):

নাসাপথের পশ্চাত্ভাগ থেকে স্বরযন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত নালী বিশেষ। এর পশ্চাত্ ভাগের উপরিতলে জিহবার মতো ছোট অংশ থাকে, একে আলা জিহবা বলে।

স্বরযন্ত্র (Larynx) :

এটি গলবলের নিচে ও শ্বাস নালীর উপরে অবস্থিত। এর দুই পাশে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে। এর উপরে একটি জিহবা আকৃতির ঢাকনা থাকে একে এপিগ্লটিস বলে।

কাজ: ১। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় এপিগ্লটিস খোলা থাকে ফলে বাতাস এ পথে ফুসফুসে যায়।

২। খাবার গ্রহণের সময় এটি স্বরযন্ত্রের মুখ ঢেকে দেয়।

শ্বাসনালী (Trachea):

স্বরযন্ত্রের নিচের অংশ থেকে একটি ফাপা নলের সৃর্িষ্ট হয়েছে একে শ্বাসনালী বলে। এর প্রাচীর কতক গুলো অর্ধ বলয়াকার তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত। এর অন্ত:প্রাচীরে সুক্ষ্ম লোম যুক্ত মিউকাস আবরণী থাকে।

কাজ: অপ্রয়োজনীয় বস্তুর প্রবেশ রোধ করে।

ব্রঙ্কাস (Bronchus):

শ্বাসনালী  ফুসফুসের নিকটবর্তী এসে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে ডান ও বাম ফুসফুসে প্রবেশ করে। এদের কে ব্রঙ্কাই বলে। প্রতিটি ব্রঙ্কাস আবার অসংখ্য শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এগুলোকে ব্রঙ্কিওল / অনুক্লোম শাখা বলে।