কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাহাড়ে ফের আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে জানেন না প্রক্টরিয়াল বডির কেউ। সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রক্টরের মন্তব্য জানতে চাইলে উল্টো এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বিরুদ্ধে। আগুন লাগার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে খোলা কাগজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. হাছিবুল ইসলাম সবুজকে হেনস্তা করেন তারা।
প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জানেন না ও আগুন লাগার বিষয়টি স্বাভাবিক দাবি করে নিরাপত্তাকর্মী পাঠাচ্ছেন বলে জানান। তবে কিছুক্ষণ পর পুনরায় ঐ প্রতিবেদককে কল দিয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। পরে তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। সেখানে ছাই দেখতে পেয়ে অগ্নিকান্ডকে আগের কোনো সময়ের ঘটনা দাবি করেন তারা। প্রতিবেদক নিজের কাছে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে দাবি করলে তার ওপর চড়াও হয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি আগুনের (আগুন লাগার পর) কাছে থাকলেন না কেন? আগুন কি হাত দিয়ে নিভিয়েছেন? আগুন লাগলে মাটি ঠাণ্ডা কেন?’ একইসাথে সহকারী প্রক্টর কাজী এম আনিছুল ইসলাম প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এটা যে আজকের ঘটনা তার প্রমাণ দেখান। এখান থেকে ধোঁয়া উড়ছে না কেন? ঘটনাস্থলে কি আপনি এসেছিলেন?' পরে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি যে আজকের সেটির কী প্রমাণ আছে আপনার কাছে?’
তবে প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রক্টর কাজী এম আনিছুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগুন অবশ্যই লেগেছে। তবে আমার ধারণা এটা অনেক আগের। যাচাই-বাছাই (বিষয়টি) করার জন্য তথ্য জানতে চেয়েছি। আগুন লাগার ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকা উচিত ছিল। সে ঘটনাস্থল থেকে চলে গেল কেনো?
একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কোনো সাংবাদিক হেনস্তা করিনি।’
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় লালন চত্বরে আগুন দেখতে পান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আগুন জ্বলে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশের গাছপালা পুড়ে গেছে। এদিকে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে না পারলেও বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, মাদকসেবীদের গাঁজার আগুন থেকেই এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গাঁজা সেবনের চিহ্নও পাওয়া গেছে সেখানে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাহাড়ের ওই অংশটিতেই মাদকসেবীরা বেশি যাতায়াত করে। বহিরাগতদের আনাগোনাও বেশি সেখানে। প্রায়সময়ই পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকান্ড ঘটলেও প্রশাসন এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের ১৪ মার্চ কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পাশের পাহাড়ে আগুন লাগলে পরিচ্ছন্নতার জন্য আগুন দেওয়া হয়েছে দাবি করে কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালের ১৮ মার্চ ও ২৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পাশের একটি পাহাড়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তখন বহিরাগত মাদকসেবীদের দ্বারা অগ্নিকান্ড ঘটেছে বলে ধারণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২২ সালে আগুন দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন একই কথা বলে। তবে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কর্তৃপক্ষকে।