গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুদক আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তার আমলের অনিয়ম, দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে বলে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে। হাইকোর্ট আগামী ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
এ ব্যাপারে দুদক আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুরের স্থানীয় এক বাসিন্দার পক্ষে অ্যাডভোকেট একরামুল হক টুটুল এ নিয়ে রিট করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রিটের অনুলিপি পেয়েছি; দুদক চেয়ারম্যানসহ রিটে সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। মেয়র জাহাঙ্গীরের দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি এক দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন রিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।
২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়া জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গাজীপুরের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে একজনকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।
সমালোচনার মধ্যে একই বছরের ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থপরিপন্থী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে গত জানুয়ারিতে তাকে ক্ষমা করেছে আওয়ামী লীগ।
অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে টেন্ডারবাজি, অযৌক্তিক লোকবল নিয়োগ করার পাশাপাশি বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে একই বছরের ২৫ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দুদক মেয়র জাহাঙ্গীরের সময়ে তার বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার কথা জানায় দুদক। একই দিন অভিযোগের বিষয়ে দুদক গঠিত অনুসন্ধান টিম গাজীপুরের নগর ভবন, ব্যাংক ও পোশাক কারখনাসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে অনুসন্ধানও শুরু করে।