বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ হাই কমিশন ও দুতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রতিটি দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিস নিজেদের আয়োজনে ভাষাশহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখাসহ বহুবিধ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ হাইকমিশন নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, প্রভাতফেরি, ভাষা আন্দোলনে নিহত বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু হয়। মান্যবর হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। পরে তিনি হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে দূতাবাস কার্যালয়ে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণারে’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পনের মধ্যে শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে বাংলাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবিদ খান উপস্থিত ছিলেন। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সকালের প্রভাত ফেরিতে নেতৃত্ব দেন মান্যবর হাই কমিশনার।

পরে দূতাবাসের ‘বঙ্গবন্ধু হল’ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় শুরুতে দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামন্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ.কে. আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। দূতাবাসের মিনিষ্টার (কনস্যুলার) সেলিম মোঃ জাহাঙ্গির, মহামন্য রাষ্ট্রপতি ও মিনিস্টার (বাণিজ্য) ড. এ কে এম আতিকুল হক প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান। ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা করেন দেশবরেণ্য সাংবাদিক আবিদ খান।

ক্যানবেরায় অমর একুশে উদযাপন

  • ক্যানবেরায় বহু ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অমর একুশে উদযাপন

অস্ট্রেলিয়ায় বহু ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে পালিত হলো শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাজধানী ক্যানবেরায় প্রভাত ফেরীসহ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এসব আয়োজনে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এসিটি) সরকারের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত-কূটনৈতিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

ক্যানবেরার তেলোপিয়া পার্কে মানুকা সার্কিট ও নিউ সাউথ ওয়েলস স্ট্রীটের ক্রসরোডে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রভাত ফেরী সকাল ৬.৩০ মিনিটে শুরু হয়ে মানুকা ওভাল ঘুরে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত  শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এসিটি) সরকারের মন্ত্রী,  রাষ্ট্রদূত-কূটনৈতিক,অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের প্রতিনিধি, অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীগণ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। অংশগ্রহণকারীরা অস্থায়ী শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় ভাষা শহিদদের স্মরণে ০১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী, এসিটি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাসেল স্টিফেন স্মিথ, পরিবেশ মন্ত্রী রেবেকা ভাসারত, বহুসংস্কৃতি বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী পিটার কেইন, অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত মনপ্রিত ভোরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

এছাড়া সন্ধ্যায় দেড় শতাধিক অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয় যাতে হাইকমিশনারসহ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে স্থানীয় বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

ভিয়েতনাম দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

  • ভিয়েতনাম দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবসের শুরুতে ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, পরে অর্ধনমিত করা হয়।

পাশাপাশি এক মিনিট নীরবতা পালন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় দূতাবাসে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তার ভিত্তিতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আমরা অর্জন করি।’

অতিথিদের মধ্যে ভিয়েতনাম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চং দো বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও ভাষা শহীদদের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সৌদি আরবের রিয়াদে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

  • রিয়াদে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা

সৌদি আরবের রিয়াদে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও সৌদি অফিশিয়ালদের নিয়ে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দূতাবাস প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সৌদি সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি হিসেবে সৌদি আরবের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক জাতীয় কমিশনের মহাসচিব আহমেদ আলবিলাদ, ওআইসির সাংস্কৃতিক, সামাজিক বিষয়ক পরিচালক লাউচিন রাজুই বক্তব্য প্রদান করেন।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে কূটনৈতিক কোরের ডীন জিবুতির রাষ্ট্রদূত দায়া আদদীন বামাখরামা, ভারতের রাষ্ট্রদূত ড. সুহেল এজাজ খান, নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ইয়াহিয়া লাওয়াল, স্পেনের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স রিকার্ডো মর সোলা বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের কাছে ভাষা আন্দোলনের কথা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এসময় তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ভাষা শহীদদের। ভাষা আন্দোলনে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা বর্ণনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এছাড়া বাঙালি জাতি মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় যে জীবন দিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল বলেও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে মাতৃভাষা বাংলা রক্ষা করার বিষয়ে বাঙালি জাতির অবদানের কথা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে পৃথিবীর ইতিহাসে দিবসটি সংগ্রাম ও ভাষার অধিকার আদায়ের এক উজ্জলতম দৃষ্টান্ত। 

এ সময় রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দ্রুতই পৃথিবী থেকে বিভিন্ন ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে, সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। মাতৃভাষা রক্ষায় তিনি দেশ কাল ভেদে পৃথিবীর সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর জোর দেন। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ ও নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার ওপর আলোচনা করেন। প্রত্যেককে নিজ নিজ ভাষার চর্চা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রাখার আহবান জানান। এছাড়া ভাষার বৈচিত্র যেকোন দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলেও জানান বক্তারা। ২১শে ফ্রেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় (ইংরেজি শাখা ও বাংলা শাখা) শিক্ষার্থীরা নাচ ও গান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে ১০ জন রাষ্ট্রদূতসহ ৪০ জন কূটনীতিক যোগদান করেন। এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ‍্যে একটি তথ্যচিত্র ও ১২টি ভাষায় একুশে ফেব্রুয়ারির গান পরিবেশন করা হয়।

এর আগে মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। দূতাবাসে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সৌদি আরব সফররত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। এরপর রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এদিন সকালে শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

  • স্টকহোম দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। বিকালে একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য নিয়ে এক মুক্ত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ ও দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

স্থানীয় সময় বিকেল ছয়টায় দূতাবাস মিলনায়তনে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকলের অংশগ্রহণে সমবেতকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত মেহ্‌দী হাসানের নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করেন দূতাবাস কর্মকর্তারা। এরপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অমর একুশের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত মেহ্‌দী হাসান বলেন, একুশ আমাদের জাতীয় মুক্তির চেতনার উৎস হিসাবে কাজ করেছে এবং আমাদের মহান একুশ আজ স্বদেশের আঙিনা পেরিয়ে বৈশ্বিক চেতনায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল উৎস। মাতৃভাষার পরিচর্যা করার পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মাতৃভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারেও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে একুশের চেতনাকে উপজীব্য করে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর আগত অতিথিদেরকে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।

  • ফিলিপাইন দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

ফিলিপাইনের ম্যানিলাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এফ. এম. বোরহান উদ্দিন বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ হতে পাঠের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দূতাবাস প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ৫২-র ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অতঃপর দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাস কর্মকর্তাবৃন্দ।

rrr

অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনা পর্বে বিশেষ আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বোরহান উদ্দিন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। একুশের চেতনার মাধ্যমে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা পেয়েছিল, যার ফলে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং মাতৃভাষা সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করেন। তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দান ও বিলুপ্ত ভাষা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সকলকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভাষার চর্চা ও বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মায়ামী (যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের সমুদ্র বন্দর) 

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মায়ামী-তে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। 

এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শতাধিকস্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি, ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি ও বিভিন্ন ভাষাভাষী ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, এবং ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে কনসাল জেনারেল ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শহীদ মিনারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্যরাও শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠক করে শুনানো হয়। 

 মায়মী মহান ভাষা দিবস অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা। সৌজন্য ছবি

এছাড়া কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদসহ উপস্থিত ভিন্ন ভাষাভাষীর শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় (যথা রাশিয়ান, স্প্যানিশ, আরবী, কাজাখ ও টোঙ্গান ভাষায়) সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।