পুতিনের হিসাব মেলেনি

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যখন ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে ২ লাখ সৈন্য পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি ভুলভাবেই ধরে নিয়েছিলেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটির রাজধানী কিয়েভে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবেন। হয়তো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন এবং তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারবেন।

কিন্তু ইউক্রেনে অভিযান চালানোর ‘কয়েক দিনের মধ্যে’ দূরের কথা, ৩৬৫ দিনের মাথাতেও তিনি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ‘বিজয়’ দেখতে পাচ্ছেন না। বরং বেশ কয়েকটি অঞ্চল বেশ দাপটের সঙ্গে দখলের পর সেসব অঞ্চল থেকেও পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে পুতিনের বাহিনী। ফলে পুতিনের প্রাথমিক হিসাব-নিকাশ স্পষ্টতই মিলছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের নিজের দেশের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার জনগণও চায় দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ হোক। তবে পুতিন শিগিগরই রণে ভঙ্গ দেবেন এমন কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

রুশ নেতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের পর সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় এই সংঘাতকে 'যুদ্ধ' না বলে বরং একটি 'বিশেষ সামরিক অভিযান' হিসেবে দাবি করেছেন। মস্কো ক্ষণে ক্ষণে ইউক্রেন জুড়ে সামরিক বেসামরিক অবস্থানে বোমা মেরেছে। লাখ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইউক্রেনের যোগাযোগ অবকাঠামো এবং বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং বিতরণব্যবস্থা।

পুতিনের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনকে 'নিরস্ত্রীকরন' করবেন এবং ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়ে কিয়েভে রুশপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন। পূর্ব ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোর স্বাধীনতাকে সমর্থন দেওয়ার কয়েক দিন পর পুতিন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। হামলার আগে তিনি রুশ জনগণের উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, ইউক্রেনের জনগণকে 'রাষ্ট্রীয় গুন্ডামি' থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করে দ্রুত এই অভিযান শেষ করবেন।

কিন্তু তিনি হয়তো বুঝতে পারেননি, যাকে তিনি দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একতরফা 'সামরিক অভিযান'হিসেবে মনে করেছিলেন তা এখন প্রবল প্রতিরোধের এক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। পাশ্চাত্যের সমর্থন নিয়ে ইউক্রেন কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে। হাজার হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে এই যুদ্ধে। পুতিন আরও বলেছিলেন, তিনি ন্যাটোকে ইউক্রেনে পা রাখতে দেবেন না। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। ন্যাটোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত ইউক্রেনে পা রেখে জেলেনস্কিকে সাহস জুগিয়ে চলেছেন।