ভালোবাসা মানে জেনুইন ভালোবাসা

উত্তর সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠানে আসবেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তাই যেসব কাউন্সিলর রয়েছেন তারাও ভিড় করলেন সৌরভকে একনজর কাছ থেকে দেখবেন। ছবি তুলবে। সৌরভময় অনুষ্ঠানের আতিথেয়তা নেবেন। গুলশানে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জায়গা সংকুলান হচ্ছিল না। চেয়ারে বসা নিয়ে টানাটানি না থামতেই প্রবেশ করেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, কলকাতার মহারাজকে একনজর দেখার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। মুহূর্তেই পুরো অনুষ্ঠানটায় ছেদ পড়ল।

উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে আরো একবার খেলাধুলার অনুষ্ঠান। ডিএনসিসি মেয়র কাপের দ্বিতীয় আয়োজন। সৌরভ বাংলাদেশে এসেছেন অন্য একটি অনুষ্ঠানে। সেই সুযোগে ডিএনসিসির খেলার অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন সৌরভ। যে হোটেলে উঠেছেন সেই হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন।

সৌরভকে বরণ করে নিতে তাকে উদ্দেশ্য করে সংগীত, নৃত্য উপহার দেওয়া হলো। সৌরভের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ঘটনাগুলো স্মৃতির ফ্রেমে প্রদর্শন করা হয়।

 মেয়র আতিকুল ইসলাম সৌরভকে চাবি উপহার দিলেন। গুডউইল অ্যাম্বাসেডর ঘোষণা দিলেন। রকিবুল হাসান, আতাহার আলী, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, খালেদ মাসুদ পাইলট, আকরাম খান, হাবিবুল বাশার সুমন, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের এমডি তরফদার রুহুল আমিন, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বললেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে দাদা তোমাকে আসতে হবে। তখন সৌরভ বললেন আমি থাকব। আমি থাকব। আমি কোনো পারিশ্রমিক  নেব না। দাদা তুমি যে ভালোবাসা দিয়েছ তা ভোলার নয়। তুমি উদাহরণ দেখিয়েছ টাকার জন্য নয়, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এসেছ।’

সৌরভ মঞ্চে উঠলেন কথা বললেন। কবে ঢাকায় প্রথম এসেছিলেন সেই স্মৃতির কথা তুলে আনলেন সবার সামনে। ১৯৮৯ সালে অনূর্ধ্ব—১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে খেলতে এসেছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে প্রথম টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন ২০০০ সালে। সেটি বাংলাদেশের জন্য অভিষেক টেস্ট ম্যাচ ছিল। সৌরভ বললেন, ‘কাকতালীয় ভাবে ঘটেছে। আমি প্রথম অধিনায়ক প্রথম টেস্ট খেলালম ঢাকায়। আমি বিসিসিআইয়ের সভাপতি হলাম পিঙ্ক বলের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করালাম সেটিরও প্রথম ম্যাচ হয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।’ কথা বলছেন সৌরভ। হাততালি দিচ্ছেন হল ভর্তি মানুষ। সৌরভ বললেন, ‘আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে এলাম। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পিচ কত সুন্দর। পিচ দেখে আমি শচিন খুব খুশি। টসে হেরে গেলাম। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড নিল। আমরা বুঝলাম হেরে গেলে তো চলবে না......। তখন আলোর স্বল্পতা ছিল। আমরা ফুটবলের আলোয় খেলেছিলাম।’

সৌরভ বললেন, ‘বাংলাদেশে শেষ বার এসেছিলাম টি-২০ বিশ্বকাপের সময়। ভারত হেরে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। এবার অনেক দিন পর এলাম। যখনই আসি বুঝতে পারি না এটা ভারত না বাংলাদেশ। আপনাদের ভালোবাসা মানে জেনুইন ভালোবাসা। আট নয় বছর বাদে এসেছি। কত উন্নত হয়েছে দেশ। সবই যুব সমাজের জন্য। এখানে গান, নাচ দেখলাম। খেলাধুলা, নাচ-গান যুব সমাজকে সুন্দর পথে রাখে। যুব সমাজকে বলব, তোমরা নেশা থেকে দূরে থাক।’

বেরিয়ে যাওয়ার সময় পা ফেলার জায়গা ছিল না। আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও সৌরভ এক মিনিট কথা বলতে পারেননি সংবাদমাধ্যমের চাপে। নেমে হোটেল রুমে যাওয়ার পথে চিড়েচ্যাপটা সৌরভ কোনো রকমে লিফটে উঠে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন।