ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কা। এত দিন তার নাম তেমন কেউ না জানলেও ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলার মধ্যে হঠাত্ আলোচনায় চলে এসেছেন এই নারী। যদিও আগে থেকেই নিজ দেশে গ্ল্যামারের কারণে রীতিমতো সেলিব্রিটি ছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্ববাসীর নজরে আসেন তার দেশে পুতিনের হামলার বদৌলতে। ওলেনা। দেশে ওলেনা এতটাই জনপ্রিয় যে ইনস্টাগ্রামে তার প্রায় ২৫ লাখের বেশি। একটি দেশে যুদ্ধ শুরু হলে সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে দেখা যায়। কিন্তু ওলেনার ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি।
তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে তার দেশের সেনাদের যেমন মনোবল জুগিয়েছেন, যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, তেমনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বামীর সঙ্গেই অবস্থান করেছেন সব সময়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েও ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। সাক্ষাত্ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গেও। তিনি দেশবাসীকে ছেড়ে ‘নিরাপদ’ অবস্থানে যেতে অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কা পেশায় একজন স্থপতি। আট বছর ধরে টানা ভালোবাসার সম্পর্কের পর ২০০৩ সালে বিয়ে করেন তারা। ওলেনা লেখালেখিও করেন। তার মেয়ের বয়স ১৭ বছর আর ছেলের ৯ বছর। ওলেনা লাইমলাইটে আসা শুরু করেন মূলত জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারের সময়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে স্বামীর হয়ে প্রচার চালিয়ে তার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। আর এখন ভূমিকা রাখছেন যুদ্ধের মুখে পড়ে যাওয়া স্বামীর মনোবল ধরে রাখায়।
সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ওলেনা জেলেনস্কা লেখেন— আমি তোমার সঙ্গে বসবাস করতে পেরে গর্বিত। আমার কোনো যন্ত্রণা নেই, চোখে পানিও নেই। আমি শান্ত ও দৃঢ় থাকব। আমাদের সন্তানরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তাদের পাশে আছি। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে আছি। আমি পরিবারকে যেমন ভালোবাসি, তেমন ভালোবাসি ইউক্রেনকেও।