যে ডাকবাংলোর চুরি গেছে দরজা-জানালাও

একটি আবাসিক ভবনে যা যা দরকার সবই ছিল জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে। প্রতিটি কক্ষ ছিল সুসজ্জিত। কক্ষের মধ্যে ছিল ছোট ছোট সোফা, চেয়ার, টেবিল, খাট, বৈদ্যুতিক বাল্ব, ফ্যান। সংযুক্ত টয়লেটে দামি কমেট, বেসিং, পানি সরবরাহের বিভিন্ন কল। দুই তলা ভবনের বারান্দার চারদিকে নিরাপত্তার জন্য ছিল থাইসহ গ্রিল। আজ তার কিছুই নেই। অবাক হলেও সত্য চোরের দল এসব জিনিসপত্র শুধু নেয়নি; বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সকেটগুলোসহ চুরি করে নিয়ে গেছে দরজা-জালানাও। আর এমন অবাক হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার প্রথম সরকারিভাবে স্থাপিত ডাক বাংলাতে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছর ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে কেউ না থাকায় একে একে সবকিছু নিয়ে গেছে চোরের দল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সালে তিতাস উপজেলার প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার বিষয়টি বিবেচনায় জেলা পরিষদের আওতায় উপজেলার গাজীপুর এলাকায় দুই তলা ভবনের ডাক বাংলোটি নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে এক জন কেয়ার টেকার নিয়োগ ছিল। প্রথম দিকে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ ডাকবাংলোয় রাত্রিযাপন করলেও, পরবর্তীকালে উপজেলা পরিষদে আবাসিক ভবন ও থানা ভবন নির্মাণ হলে এর চাহিদা কমে যায়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. নুরে আলম কেয়ারটেকার হিসেবে এটির রক্ষণাবেক্ষণে ছিলেন। ভবনটিতে লোকজনের আনাগোনা না থাকায় নুরে আলম প্রায় এখানে অনুপস্থিত থাকতেন। একপর্যায়ে ডাকবাংলোর কিছু আসবাব চুরি হওয়ায় ২০২০ সালের প্রথম দিকে নুরে আলম থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করেন। করোনাকালে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করায় এতে আর কেউ থাকতেন না। এ সুযোগে ডাকবাংলোটি একটি ভূতুরে বাড়িতে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে তিতাস ওয়ার্ডের জেলা পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন পলাশ জানান, সম্প্রতি ভবনটির চারদিকে ঘিরে থাকা গাছগাছালি, আগাছা-আবর্জনা পরিষ্কার করার পর এ চিত্র প্রকাশ্যে আসে। এটি জেলা পরিষদের সম্পদ। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও জেলা পরিষদের। ডাকবাংলোটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ চলছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

ভবনটি পরিদর্শনে আসা কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বাবলুর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না। কী কী লাগবে তার তালিকা করতে বলেছি। যত বরাদ্দই লাগে এটি সংস্কার করা হবে এবং তা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে।