সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে উড়ন্ত ফর্মে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিছুদিন আগেও তুমুল সমালোচনার শিকার হওয়া শান্ত হয়েছেন বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আর আসরের সেরা খেলোয়ার। এবার সেই ফর্ম যেন শান্ত টেনে আনলেন বাংলাদেশের জার্সিতেও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে করলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। আর শান্তর ব্যাটে ভর করেই বড় সংগ্রহের আশা দেখেছে বাংলাদেশ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলো টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা একেবারে মন্দ ছিলো না বাংলাদেশের। তামিম আর লিটন মিলে ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেইয় বাংলাদেশকে। তামিম সাবলীল থাকলেও লিটন ছিলেন খোলসে বন্দী।
দলীয় ৩৩ রানে লিটন ফেরেন ১৫ বলে ৭ রান করে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন শান্ত। তামিমের সঙ্গে জুটিও গড়েন ফর্মে থাকা এই ব্যাটার। পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে দলীয় ৫১ রানে বিদায় নেন তামিম। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দলের রান এগিয়ে নিতে থাকেন শান্ত। তবে দলীয় রান ১০০ ছোঁয়ার আগেই ১৭ রান করেই আউট হয়ে যান মুশফিক।
ক্রিজে এসে সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসানও। ১২ বলে ৮ রান করেই ফেরেন তিনি। তবে তখন ক্রিজের অপর প্রান্তে অবিচল শান্ত। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন তিনে নামা এই বাহাটি ব্যাটার। ৪ উইকেট পড়ে গেলেও ক্রিজের আরেক প্রান্ত আকড়ে ধরে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে।
অষ্টম ওভারে জোফরা আর্চারকে প্রথম বাউন্ডারি মেরেছিলেন শান্ত। পরের ওভারেই ক্রিস ওকসকে মারেন টানা দুই বাউন্ডারি। বিপিএলের মতোই ঝড় তোলার আভাস থাকলেও প্রয়োজনে আবার শান্তও হয়েছেন শান্ত। শেষমেশ আর্চারের করা ৩০তম ওভারের পঞ্চম বলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নিজের প্রথম অর্ধশতক পূরণ করেন শান্ত।
১৪৬ কি.মি. গতির আর্চারের বলটিকে লং লেগে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়েই ৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শান্তর ফিফটিতে ভর করে ৩১ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। শান্তর সঙ্গে ক্রিজে আছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।