ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর পুরনো ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর মেরামত কাজ বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্ধ রয়েছে এ সেতুর উপর দিয়ে ভারী ও মাঝারি সকল প্রকার যানবাহন চলাচল। এতে সেতুর দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। এদিকে চাহিদামাফিক বেইলি পাওয়া মাত্র পুরোদমে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন।
জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, এখনো চাহিদামাফিক বেইলি পাইনি। বেইলি পাওয়া মাত্র সংস্কার কাজ শুরু হবে। তাছাড়া ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুসারেই কাজ হবে। সেতুর ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। ঐদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর পুরাতন সেতুর চতুর্থ স্পেনের ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণার পরও শতশত গাড়ি বিশেষ করে মালবাহী ট্রাক জমা হয় উভয় পাশে।
অপরদিকে শাহবাজপুর সেতু বন্ধ হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার রাত এবং বুধবার সকাল থেকে বিকল্প সড়ক দিয়ে সিলেটমুখী যান চলাচল করছে। তবে সরাইল-নাসিরনগর এলাকায় সড়কটি মহাসড়কের মতো প্রশস্ত এবং বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় মাঝে মাঝে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্বরোড খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি হোসেন সরকার জানিয়েছেন, বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজ বিভাগ সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে ১৫ টনের অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল নিষেধ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে। কিন্তু ঐ নির্দেশনা না মেনে প্রতিনিয়ত ১৫ টনের অধিক যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করে। এ কারণে প্রায়ই সেতুর সমস্যার কারণে এ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।