প্রচারণার অভাবে নিকলীতে নিবন্ধন হচ্ছে না হিন্দু বিয়ে

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রচার প্রচারণার অভাবে প্রায় সাত বছরে নিকলীতে আট/দশটির বেশি  হিন্দু মেয়ের বিয়ের নিবন্ধন হয়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই অফিস খুলে বসে থেকে অলস সময় কাটাচ্ছেন নিকলীর হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক পন্ডিত সুকান্ত আচার্য।

নিবন্ধক পন্ডিত সুকান্ত আচার্য বলেন, ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট নিবন্ধকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ১৯ জুন ২০১৯ পর্যন্ত আমার কাছে আট/দশটি  বিয়ের নিবন্ধন হয়েছে। সাত বছর ধরে অফিস ভাড়া ও প্রতিবছর ৩১ মার্চ ১১৫০ টাকা সরকারি ফির টাকা জমা দিয়ে যাচ্ছি। মূলত সরকারি  বেসরকারিভাবে প্রচারের অভাবে এমনটি হচ্ছে। সুকান্ত আচার্যের হিসাব অনুযায়ী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী বসবাস করেন। প্রতিবছর উপজেলায় শতাধিক হিন্দু বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তার কাছে বিয়ে নিবন্ধনের জন্য কোনো পক্ষই আসে না। ফলে অফিস খুলে খাতা নিয়ে বসে থাকেন। এভাবে এ পেশায় টিকে থাকা সম্ভব না বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ গত বছরের ১০ অক্টোবর বিয়ে হয় উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাইটদার গ্রামের নারায়ণ দেবনাথের মেয়ের। নারায়ণ দেবনাথ বলেন, মেয়ে বিয়ে দিলে নিবন্ধন করতে হবে এমন কথা আমি কোনোদিন শুনিনি। আমরা অগ্নিকে সাক্ষী রেখেই বিয়ে দিয়ে ও করিয়ে আসছি। আর এ ব্যাপারে এলাকায় মাইকিং করে কেউ প্রচারও করেনি।

নিকলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ বলেন, মূলত প্রচারণার অভাবেই এমনটি হচ্ছে। মুসলিম আইনে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও হিন্দু আইনে এ রকম বাধ্যবাধকতা না থাকায় হিন্দু মেয়ের বিয়ে নিবন্ধন না করেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। উপজেলার হিন্দু নেতারা যদি প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা করতো তবে কিছুটা সুফল পাওয়া যেতো।

নিকলী উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি জীবন আচার্য ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল দেবনাথ বলেন, উপজেলায় সাত বছরে আট/দশটি হিন্দু বিয়ের নিবন্ধন হয়েছে বিষয়টি শুনে অবাক হলাম। রাষ্ট্রীয় ও দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যায় আইনি সহায়তা ও নানা কারণে বিয়ে নিবন্ধন প্রয়োজন। অন্যদিকে আইনটির কড়াকড়ি না থাকায় অনেক হিন্দু মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেওয়া হয়। আমরা উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতার সঙ্গে আলোচনা করে হিন্দু মেয়েদের বিয়ে নিবন্ধনের প্রচারের ব্যবস্থা করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা আক্তার বলেন, অনেক বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও কাজের চাপে করতে পারি না। তবে আমি কিছুদিনের মধ্যে নিকলীর হিন্দু নেতাদের নিয়ে বসে হিন্দু মেয়েদের বিয়ের নিবন্ধনের প্রচারের বিষয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেবো।