স্পোর্টস রিপোর্টার
এমনিতেই সাকিব আল হাসানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তার কমতি নেই। এই সাকিবের ১০ উইকেট শিকারেই বাংলাদেশ সফরে টেস্ট হেরেছিলো অস্ট্রেলিয়া। সেই সাকিবের সঙ্গে এখন আবার যোগ হয়েছে ভয়ানক ফর্ম। ব্যাট হাতে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের মালিক। বল হাতেও হয়ে উঠছেন হুমকি। এই অবস্থায় সাকিবকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা আঁটছে অস্ট্রেলিয়া।
বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলনে নেটে ডেকে পাঠানো হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগারকে। গতবছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে একাদশের নিয়মিত মুখ অ্যাগার এবার বিশ্বকাপের দলে নেই। কিন্তু ইংল্যান্ডেই আছেন। ‘এ’ দলের সঙ্গে সিরিজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা অ্যাগারকে নর্দাম্পটন থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে মূলত সাকিবকে সামলানোর প্রস্তুতি হিসেবে।
আইসিসির দেওয়া নেট বোলারদের জন্য বিশেষ কমলা রঙের টুপি পরে দীর্ঘ সময় নেটে বল করেছেন অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথকে। অস্ট্রেলিয়া নেটে বল করার জন্য ভারত থেকে দুজন লেগস্পিনার এনেছিলো। তারা আবার দেশে ফিরে গেছে। এখন সাকিবকে সামলানোর জন্য ডেকে এনেছে তারা অ্যাগারকে। সাকিবকে সামলানো অস্ট্রেলিয়ার জন্য কতোটা জরুরি সেটা বলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলছিলেন,‘সাকিব এখন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার এবং বিশ্বের সেরা বাঁহাতি স্পিনার। আমাদের জন্য এটা দারুণ ব্যাপার হয়েছে যে অ্যাশ (অ্যাগার) এখানে আসতে পেরেছে এবং ওকে নেটে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। গতবছর এই সময়েও সে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলেই ছিলো। আমাদের একটা বড় মূলবোধ হলো, পেশাদারিত্ব। অ্যাস্টন অ্যাগারের মতো কারো কাছ থেকে যখন আমাদের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেটা খুব ভালো ব্যাপার।’
এখন বাংলাদেশ পয়েন্ট তালিকায় ৫ নম্বরে আছে। মূলত সাকিব আল হাসানের দারুণ পারফরম্যান্সে ভর করে তারা ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। আইসিসির একনম্বর অলরাউন্ডার সাকিব টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল স্কোর অনায়াসে তাড়া করিয়েছেন। এর আগে ওই ম্যাচেই দুটি উইকেটও নিয়েছেন তিনি। এই ম্যাচের পর সাকিব আল হাসান বলেছেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ নিয়ে ভীত নন। কারণ হিসেবে সাকিব বলেছেন, ‘আমরা গত চার ম্যাচে বিশ্বের সেরা কিছু ফাস্ট বোলারকে খেলে ফেলেছি। প্রতি ম্যাচেই, প্রতিটা দলে অন্তত দুজন ফাস্ট বোলার ছিল, যারা ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে গতিতে বল করে। আমরা সেটা ভালোমতো সামলেছি। আমরা অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলিং নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই। কারণ আমরা ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছি। দুই দলেই ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা বোলার ছিলো। আমার মনে হয়, এসব সামলে ফেলার পর আমাদের স্রেফ বেসিকটা ঠিক রেখে খেলতে হবে। আমরা এই চ্যালেঞ্জ সামলানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট যোগ্য বলেই নিজেদের মনে করি।’