আবাহনীর সেরা দিন

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

আগে আরো তিনবার এএফসি কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে খেললেও আবাহনী দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার টিকিট পায়নি। এবার একটা সুযোগ আসতে পারে। এমন সম্ভাবনা জাগিয় তুলেছে আবাহনী। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের পঞ্চম খেলায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নেপালের মানাং মারসিয়াংদী ক্লাবকে। বিদায় হয়ে গেছে নেপালের এ দলের। স্বপ্ন যাত্রার পথে এগিয়ে থাকল আবাহনী।

আবাহনীর এই ‘ই’ গ্রুপে ভারতের চেন্নাইন এফসি কাল খেলেছে ভারতের আরেকটি দল মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে, মিনারভা গ্রুপ হতে বিদায় নিয়েছে। সর্বনাশ হয়েছে চেন্নাইন এফসির। ড্র হওয়ায় তাদের পয়েন্ট ৮। আর আবাহনী জয় পাওয়ায় তাদের পয়েন্ট ১০। সবার ওপরে উঠে গেছে আবাহনী। এই দুই দলেরই একটি করে খেলা রয়ে গেছে। চেন্নাইন এফসি খেলবে নেপালের মানাং মারসিয়াদীর বিপক্ষে। আর আবাহনী খেলবে মিনারভা পাঞ্জাবের বিপক্ষে। হিসাবটা এখন এমন যে, চেন্নাইন যদি শেষ খেলায় হারে বা ড্র করে তাহলে আবাহনী ১০ পয়েন্ট নিয়ে এমনিতেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যাবে। শেষ খেলায় হারলেও সমস্যা নেই। ধরে নেওয়া যায় চেন্নাইন শেষ খেলায় জিতে ১১ পেল। তাহলে আবাহনীকে জিততেই হবে। যদি ড্র হয় তাহলে গোলের হেড টু হেড হিসাবে আবাহনী পিছিয়ে যেতে পারে কারণ ঢাকার মাঠে চেন্নাইন এফসি আবাহনীর বিপক্ষে ২ গোল করেছিল।

আবাহনীর সামনে এই হিসাব কঠিন হলেও সহজ হিসাব হচ্ছে ২৬ জুন শেষ ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বেরিয়ে যাওয়া। আবাহনীও এমনটাই ভাবছে। দারুণ খুশি আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। তিনি জানিয়েছেন এখনো অনেক দূর যেতে হবে। কোচ বললেন, ‘আমরা জয়ের বিকল্প কিছু ভাবছি না।’

জীবন, বেলফোর্ট, জুয়েল রানা, সানডে চিজোবা ও মামুনুল ইসলাম গোল করেন। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আবাহনী।  

জীবন কাল কঠিন সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেছেন। খেলার ১০ মিনিটেই গোল আদায় আবাহনীর। জীবন দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ একটা গোল করে সমালোচনার সঠিক জবাব দিলেন ১-০। প্রথমার্ধের শেষ ক্ষণে হাইতিয়ান বেলফোর্টয় একক কারিশমা দিয়ে গোল করেন ২-০। ৩ এপ্রিল নেপাল তাদের ঘরের মাঠে যতটা ভালো খেলেছিল কাল ফিরতি খেলায় সেই গন্ধ পাওয়া যায়নি। তীব্র গরমে নাকাল নেপালি দল। মিনিটে বেলফোর্ট সোহেল রানার পা থেকে পাওয়া বলটাকে বিদ্যুত্ গতিতে জালে রাখেন জুয়েল রানা ৩-০।  

খেলার ধারায় বুঝাই যাচ্ছিল পুরো দিনটাই আবাহনীর। কিন্তু কোনোভাবেই সানডে গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না। সানডে কয়েকবার মানাং মারসিয়াংদীর গোলপোস্টে হানা দিয়ে কাজ হচ্ছিল না। গোলের জন্য মরিয়া সানডে ৭০ মিনিটে গোল পেলেন ৪-০। ইনজুরি টাইমে গিয়ে গোলের সুযোগ নিলেন মামুনুল ইসলাম। দূর হতে আচমকা শটে মামুনুল গোল করেন ৫-০। নেপালি কোচ সেরিং লোপসাং গুরুং জানিয়েছেন তারা গরমে খেলতে পারেননি।