স্পোর্টস ডেস্ক
ব্রাজিল ফরোয়ার্ড মার্তাই এখন নারী ও পুরুষ ফুটবল মিলিয়ে এ যাবত্ কালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মার্তা ফ্রান্সে অনুষ্ঠানরত নারী বিশ্বকাপে গত মঙ্গলবার রাতে ইতালির বিরুদ্ধে একমাত্র গোলটির সুবাদে এই রেকর্ডের পাশাপাশি ব্রাজিলকেও তুলে দেন শেষ ষোলয়।
ছয়বার বিশ্বের বর্ষসেরা ফরোয়ার্ডটি এ নিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ১৭ গোল করলেন। ইতালির বিরুদ্ধে ১-০ জয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি মেরে গোলটি করেন ৩৩ বছরের এই ব্রাজিল কিংবদন্তি। এর সুবাদে তিনি ছাড়িয়ে যান পুরুষ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করা জার্মানির মিরোশ্লাভ ক্লোসাকে।
মার্তা পাঁচ বিশ্বকাপে ১৯ খেলায় গোলগুলো করেন। অপরদিকে ক্লোসা চার বিশ্বকাপে ১৬ গোল করেন ২৪ খেলায়। ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি রোনাল্ডোর আছে তিন বিশ্বকাপে ১৯ খেলায় ১৫ গোল।
অমন রেকর্ডের পর সঙ্গত কারণেই আনন্দে ভানবাসি হন মার্তা। তিনি জানান, এ সাফল্য ‘আরো সাম্য ও নারীদের ক্ষমতায়নে’ ব্যবহার করবেন। ব্রাজিল ফুটবলারটি বলেন, ‘অনুভূতিটা আনন্দের তো বটেই। সেটা শুধু রেকর্ড গড়ার কারণে নয়। বরং এরকম সাফল্য দেখানোর বেলায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি বলেও।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নারীদের প্রতিনিধিত্বের চেষ্টা করছি এবং দেখাচ্ছি নারীরাও কিভাবে যে কোনো ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। এখানে আসা সব দল, আমরা সবাই (নারীদের) প্রতিনিধিত্ব করছি। একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিতে চাই, এটা কেবল খেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়।’ কথাবার্তার কারণ এবারের নারী বিশ্বকাপে নগদ পুরস্কারের পরিমাণ দুই কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড যা ২০১৫ আসরের দ্বিগুণ। তারপরও এ অংশ ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত পুরুষ বিশ্বকাপের ধারে কাছে নেই। রাশিয়ার আসরটিতে নগদ পুরস্কারের পরিমাণ ছিল সাড়ে ৩১ কোটি পাউন্ড। নিজের দেশ ব্রাজিলের হয়েই শুধু শক্তিমত্তা দেখাচ্ছেন না মার্তা। তার কারণে বৈশ্বিক নারী ফুটবলের ভাবমূর্তিও বাড়ছে। বাড়ছে টেলিভিশন দর্শক সংখ্যাও। ব্রাজিলের কাছে হারা ইতালির কোচ মিলেনা বার্তোলিনি বলছেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনেক লোক যখন তার খেলা দেখছেন, তখন তাদের মননে নারীরা ফুটবল খেলতে পারে কি পারে না, সে ব্যাপারেও পরিবর্তনটা এসেছে।
এদিকে ইতালি হেরে গেলেও শেষ ষোলয় খেলা নিশ্চিত করেছিল আগেই। এখন তারা গ্রুপ জয়ী হিসেবে পরের রাউন্ডে তৃতীয় স্থান পাওয়া কোনো দলের বিরুদ্ধে খেলবে। অপরদিকে ব্রাজিলের মেয়েরা খেলবে হয় ফ্রান্স নয়তো জার্মানির সাথে।