ইত্তেফাক রিপোর্ট
স্থানীয় বস্ত্রশিল্পের মালিকরা ট্যারিফ পদ্ধতিতে প্রতি কেজি সুতায় তিন টাকা হারে এত দিন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বাজেটে ট্যারিফ ব্যবস্থা বাতিল করে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের প্রতি কেজি সুতায় সর্বোচ্চ ২৪ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সেই হিসেবে স্থানীয় বস্ত্রশিল্পে ভ্যাট বেড়েছে আট গুণ পর্যন্ত। এর ফলে দেশীয় তাঁতশিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিটিএমএ। স্থানীয় বস্ত্রশিল্প বন্ধ হয়ে এ খাতটি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ার আশঙ্কাও তাদের। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানান বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, তিন টাকার স্থলে ভ্যাট ২৪ টাকা পরিশোধ করতে হলে প্রতি কেজি সুতার দাম বাড়বে প্রায় ১৬ টাকা। ভ্যাট আরোপের কারণে এত টাকা বাড়তি দর দিয়ে কোন ফেব্রিক মিল বা তাঁতি স্থানীয় সুতা ক্রয়ে আগ্রহী হবেন না। এমনিতেই মিলগুলোর তৈরি সুতা বিক্রি হচ্ছে না। কেননা বাজারে বিভিন্ন পন্থায় শুল্ক ও করমুক্তভাবে আনা পর্যাপ্ত বিদেশি সুতা রয়েছে। ফলে দেশীয় তাঁতি, পাওয়ারলুম, হ্যান্ডলুমসহ প্রান্তিক তাঁতিরা বিপদে পড়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে স্পিনিং মিলগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ফের সুতা ও কাপড়ে আমদানিনির্ভর দেশে পরিণত হবে। স্থানীয় এ বাজারটি বিদেশের দখলে চলে যাবে। ৫ লাখ মানুষের কর্মহীন হওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি দেশের ব্যাংক, বিমা, পরিবহনসহ অন্যান্য অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই ভ্যাট প্রত্যাহার করে অতীতের মতো প্রতি কেজি সুতায় তিন টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট রাখার দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। বিটিএমএ সূত্র জানিয়েছে, দেশে উত্পাদিত সুতার মধ্যে ৪০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে ব্যবহূত। এর ফলে লুঙ্গি, গামছা, গেঞ্জি, থ্রিপিসহ সব ধরনের স্থানীয় বস্ত্রের দর বেড়ে যেতে পারে।
অতীতে কেবল বাণিজ্যক আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) থাকলেও এবার সব ধরনের আমদানিতে এটিভির স্থলে ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্যাক্স (এটি) আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি হওয়া যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করে বিটিএমএ। মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, এ অর্থ ফেরত আনতে পারার কথা বলা হলেও বাস্তবে সরকারি দপ্তর থেকে টাকা ফেরত আনা কঠিন কাজ। এটি ব্যবসায়ের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। ইতোমধ্যে বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এই ‘অযৌক্তিক’ কর আদায়ের ফলে মূলধন আটকে যেতে পারে। ফলে তারল্য সংকট তীব্র হবে। এতে কোনো ফল আসবে না বরং তা পণ্যের উত্পাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। শিল্পের সব ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানি থেকে অ্যাডভান্স ট্যাক্স প্রত্যাহার করা ও রপ্তানি গার্মেন্টস রপ্তানিতে ১ শতাংশের স্থলে বিদ্যমান ০.২৫ শতাংশ উেস কর আরোপের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর সহসভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, পরিচালক শাহিদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।