মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী যুক্ত হচ্ছে নানা আয়োজনও। সভা-সম্মেলন, অফিসের খাবার, বিয়ে, পিকনিক, জন্মদিন, পারিবারিকসহ যে কোনো অনুষ্ঠানে খাবার নিয়ে ভরসা বাড়ছে ক্যাটারিং সার্ভিসে। বাবুর্চি খোঁজা, বাজার করে রান্নাবান্নার ঝামেলা এড়াতে চান বেশির ভাগ মানুষ। তাই খাবারের মেনু জানিয়ে দিয়ে অনুষ্ঠানে খাবারের দায়িত্ব ক্যাটারিং সার্ভিসকে দিয়ে করাচ্ছেন অনেকে। দিন দিন এ সার্ভিসের চাহিদা বাড়ছে।
ক্যাটারিং ব্যবসা বলতে মূলত খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের ব্যবস্থাকে বোঝায়। চুক্তি ভিত্তিতে খাবার সরবরাহ করেন খাদ্য সরবরাহকারীরা। এ ব্যবসার পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। নারীরাও বেশ এগিয়েছেন এই ব্যবসায়। অনেকে বাড়িতে বসে এই ব্যবসা পরিচালনা করেন। স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় ক্যাটারিং বা খাদ্য সরবরাহের ব্যবসা। তাই অনেক তরুণও ঝুঁকছেন এই পেশায়। ঐশী ক্যাটারিং সার্ভিসের মালিক সানজিদা রহমান। ঘরে খাবার তৈরি করে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা করে আসছেন। ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে তিনি তার ক্যাটারিং সার্ভিসের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তিনি জানান, আমরা বিভিন্ন অফিসে দুপুরের খাবারসহ অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করি। ছোটখাটো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও সবাই ক্যাটারিং সার্ভিস থেকে খাবার নিচ্ছে। তিনি জানান, লাঞ্চ আইটেমের মধ্যে সাদা ভাত, ভর্তা, মাংস, বিভিন্ন রকমের মাছ ও সবজি তরকারী তিনি অর্ডার নেন। আগে অর্ডার করলে পরে তিনি সেটি সাপ্লাই দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বাহারি খাবারের অর্ডার নেন। তিনি জানান, নিজের কাজের পাশাপাশি এটি করছি। বেশ উপভোগ করছি। সঙ্গে টাকাও আসছে।
ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচলানা করছেন মাসুদুল আলম। যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই সেক্টরে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে এই ব্যবসায় এসেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই খাতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের ক্যাটারিং সার্ভিস বড় বড় বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানির সিও, এমডির অভিজাত পারিবারিক অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করে। এছাড়া আমাদের ক্যাটারিং সার্ভিস বিভিন্ন কনভেনশান সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাদের সেখানে যে কোনো অনুষ্ঠানের সময় খাবারের দায়িত্ব আমাদের কাছে পড়ে। আর আমরা ছোটখাটো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও খাবার সরবরাহ করি। গুলশান, বনানীসহ উচ্চবিত্ত পরিবারের বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমাদের খাবার যায়। অনেকে বিভিন্ন সময় বাসার ছাদে পার্টির আয়োজন করে, আমরা সেখানে খাবার সরবরাহ করি। শুধু খাবারই নয়, কেউ চাইলে আমরা ফ্রি তাদের অনুষ্ঠানস্থল সাজিয়ে দেওয়াসহ যাবতীয় সব কিছু সরবরাহ করি। যেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারে। বেশির ভাগ কাস্টমার তাদের খাবারের গুণমান নিয়ে সচেতন থাকে। আর আমরা এ ক্ষেত্রে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের কী ধরনের মশলা, তেল ব্যবহার হবে সেটিও জানিয়ে দেই। আর সেই চাহিদা অনুযায়ী খাবারের দাম নির্ধারণ হয়। আমরাও কাস্টমারের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করি। বড় অনুষ্ঠান ছাড়াও আমরা অফিসে দুপুরের খাবারও সরবারহ করি। মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় এই ক্যাটারিং সার্ভিসটির অফিস রয়েছে।
অন্যদিকে মেহেদী ক্যাটারিং সার্ভিসের মাহফুজ আল মোল্লা বলেন, আগে ব্যবসা ছোট ছিল। এখন চাহিদা বাড়ায় আমাদের বিজনেসও বড় হয়েছে। ক্যাটারিং সার্ভিসের চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। এতে আমরাও চেষ্টা করছি নিজেদের ব্রান্ডিং ঠিক রেখে ভালো সার্ভিস দিতে। অনুষ্ঠান হলেই মানুষ এখন ক্যাটারিং সার্ভিসের কথা ভাবে। ফখরুদ্দিন ক্যাটারিং সার্ভিসের সুনাম রয়েছে বহুদিন ধরেই। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তাদের এই প্রতিষ্ঠান। ফখরুদ্দিন ক্যাটারিং সার্ভিস বিয়ে, বৌভাত, গায়ে হলুদ, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী ও করপোরেট অনুষ্ঠানে স্বাদ ও মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে এটি পরিচালনা করছেন আব্দুল খালেক। উত্তরা এলাকায় ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান করেন শামীম হোসেন। তিনি জানান, ২৫ জনের খাবারের জন্য আমি ক্যাটারিং সার্ভিসে কাচ্চি বিরিয়ানির আইটেম অর্ডার করি। নির্দিষ্ট সময়ে তারা খাবার পৌঁছে দেয়। কোনো ঝামেলা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয়। রান্না ও বাজার করার কোনো ঝামেলা নেই। ছোটখাটো পারিবারিক অনুষ্ঠানে এখন ক্যাটারিং সার্ভিসের বিকল্প নেই। শুধু শামীম নয়, রাজধানী ঢাকায় এখন সব শ্রেণির মানুষই অনুষ্ঠানে ক্যাটারিং সার্ভিসের ওপর ভরসা রাখছে।