হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি ২০ জনের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জ ও ফরিদপুরে দুটি পৃথক হত্যা মামলার রায়ে গতকাল বুধবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ফরিদপুরে জোড়া খুনের মামলাটির রায় ঘোষণার পর পরই আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে গেছে এক আসামি।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার হোসেনপুর উপজেলার টানসিদলা গ্রামের এরশাদুল ইসলাম চয়নকে হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসি ও তিন নারীসহ সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। কিশোরগঞ্জের প্রথম আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- আব্দুল আউয়াল, আল আমিন ও আ. করিম এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলো- সুফল ও তার সহোদর সোহেল, সাফিয়া খাতুন, বিপাশা আক্তার, জহুরা খাতুন ওরফে অজুফা, আ. কাদির ফকির ও আব্দুর রউফ ফকির। এর মধ্যে আব্দুল আউয়াল, সুফল ও সোহেল পলাতক রয়েছে। ২০০৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পূর্বশত্রুতার জেরে চয়নকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, সালথা উপজেলার নটখোলা গ্রামের গঞ্জর খাঁ ও মোসা মোল্লা নামে দুই ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মতিয়ার রহমান। রায় ঘোষণার সময় কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১জন আসামি আদালতে হাজির ছিল। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে। এসময় আদালত চত্বর থেকে আফসার ফকির নামে এক আসামি পালিয়ে যায়। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানার পুলিশ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো:আব্দুল মান্নান খাঁ, সুরমান খাঁ, মাজেদ খাঁ, ওয়াজেদ খাঁ, রাশেদ খাঁ, সিদ্দিক ফকির, সোহরাব ফকির, আফসার ফকির, ফজলু ফকির, রহমান খাঁ, রেজাউল খাঁ, জিকির ওরফে জিগির খাঁ ও ওসমান ফকির।  তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

২০০৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলার নটখোলা গ্রামে পিঁয়াজ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে একটি সালিশ বৈঠকে ওই দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করে দণ্ডপ্রাপ্তরা।