পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৩৩টি উপজেলায় সবাই বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত পাঁচ ধাপে প্রায় ৪৮০ উপজেলায় ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিটি ধাপেই ভোটারের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। পাঁচ ধাপে গড় ভোট পড়েছে ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ। আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ ধাপে অর্থাত্ ষষ্ঠ ধাপে বাকি উপজেলায় ভোট হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।
প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে বেশির ভাগ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বর্জন করেছে। যে কারণে উপজেলা নির্বাচন এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। বেশির ভাগ জায়গায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরাই।
৩৩ উপজেলায় সবাই নির্বাচিত : ৪৮০ উপজেলার মধ্যে ৩৩টি উপজেলায় তিনটি পদের সবাই বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমধাপে তিনটি উপজেলায় সবাই ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হন। উপজেলাগুলো হলো— জামালপুরের মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও নাটোর সদর। দ্বিতীয় ধাপে ছয়টি উপজেলায় সবাই নির্বাচিত হন। এগুলো হলো— নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান। তৃতীয় ধাপে আরো ছয়টি উপজেলার সবাই বিনা ভোটে নির্বাচিত। উপজেলাগুলো হলো— বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, নরসিংদীর পলাশ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা। চতুর্থধাপে সবচেয়ে বেশি ১৫টি উপজেলা থেকে তিনটি পদের সবাই নির্বাচিত হন। সেগুলো হলো— ভোলা সদর, মনপুরা, চরফ্যাশন, যশোরের শার্শা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ঢাকার সাভার, কেরানীগঞ্জ, কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, দেবিদ্বার, চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, ব্রা??হ্মণবাড়িয়ার কসবা এবং ফেনীর পরশুরাম। সর্বশেষ পঞ্চমধাপে তিনটি উপজেলার সবাই নির্বাচিত। উপজেলাগুলো হলো— কুমিল্লার সদর আদর্শ, সদর দক্ষিণ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর।
৪৮০ উপজেলার মধ্যে ১৪৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি-জাপা তিনটিতে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী ১টি উপজেলায় জয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও বান্দরবনের একটি উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ১০টির মতো উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো জয়লাভ করেছে। বাকি উপজেলাগুলোয় একচেটিয়া নৌকার মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হন।