পকেটের টাকায় চলে সিডি দোকান!

দোকানের টেবিলজুড়ে বিভিন্ন অডিও সিডির মলিন অ্যালবামের প্রচ্ছদ এখনো চোখে পড়ে। বিভিন্ন গানের অডিও সিডি এখনো থরে থরে সাজানো। শুধু ‘সুরের মেলা’র সেই চেনা ব্যস্ততা এখন আর নেই। এক সময় এই দোকানে আব্দুল জব্বার, বারী সিদ্দিকী, পথিক নবীর মতো শিল্পীদের নিয়মিত আড্ডা ছিল। আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটের নিচতলার দোকানটি এখন শুধুই স্মৃতিচিহ্ন।

নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দোকানটি এখনো চালাচ্ছেন শামীমা জেসমিন সীমা। তাঁর বড় ভাই রিয়াজ মাহমুদ খালেদের হাত ধরে ১৯৯৭ সালে এই দোকান চালু হয়। একযুগ আগে থেকেই সিডি বাজারে মন্দা, এখনো চালাচ্ছেন কীভাবে? তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতেই এখনো এটা চালাচ্ছি। এখন তো বেচাকেনা একেবারেই নেই। মাসে চার/পাঁচজন কাস্টমার আসেন সিডি কিনতে! পুরোনো গানের সিডি খোঁজেন। যাঁরা আসেন তাঁদের বেশিরভাগই মধ্যবয়সী।’

‘সুরের ভুবন’-এর সামনে এখনো বাজে নানা ধরনের গান। তবে দিনের বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে দোকানটি। দোকানটির এক কর্মচারী বলেন, ‘নতুন কোনো অ্যালবামও প্রকাশ হয় না। রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রগুলোও বস্তাবন্দি। মালিক চায় দোকানটা চলুক, সেকারণেই চলছে।’

রাজধানীতে এমন আরো বেশকিছু অডিও সিডির দোকান রয়েছে। যেগুলো টিকে আছে সেগুলোও অনেকটাই অচল। বছরের পর বছর ধরে ধুলো জমে গেছে ক্যাসেট, সিডি রাখার তাকে। দোকানগুলোও প্রাত্যহিক নিয়ম মেনে খোলা হয়। সিডির চল না থাকায় সেগুলোও আর কতদিন টিকে থাকে তা বলা যায় না। অথচ এক সময় ভিড় লেগে থাকতো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণী থেকে মধ্যবয়সী সঙ্গীতানুরাগী শ্রোতাদের। মাঝে মধ্যে আড্ডা বসতো গানের গীতিকার, সুরকার, শিল্পীদের। শুধু সেই ভিড় ও আড্ডা আর জমে না তা নয়, গানের ব্যবসার ধরনটাই তো বদলে গেছে।সিএমভির ব্যানারে আগে প্রচুর অ্যালবাম বের হতো। এখন হয় না। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান স্বত্বাধিকারী শেখ সাহেদ আলী বলেন, ‘এখনতো সব পাল্টে গেছে। সবাই এখন গান ইউটিউবে শুনছেন ও দেখছেন। আমরাও দর্শকদের চাহিদার ওপর জোর দিচ্ছি।’