পিরোজপুরে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ

বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধ ও স্থাপিত মিটার প্রত্যাহারের দাবিতে পিরোজপুরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ওজোপাডিকোকে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুরের সর্বস্তরের জনগণ প্রি-পেইড মিটার বন্ধের দাবিতে খুলনা-বরিশাল মহাসড়কে বলেশ্বর ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে এ আল্টিমেটাম দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন অবরোধকারীরা। পরে  পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে ঘণ্টাব্যাপী এই সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

সড়ক অবরোধকালে বক্তব্য রাখেন, গ্রাহক খালিদ আবু, সাইদুল ইসলাম ডালিম, মো. নুরুদ্দিন, তামিম সরদার প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, প্রি-পেইড মিটারে কি ধরনের জালিয়াতি হচ্ছে তার প্রমাণ মিলবে শুধুমাত্র মিটার ভাড়া আদায় সংক্রান্ত বিষয়টিকে ঘিরেই। কেননা কতোদিন পর্যন্ত মিটার ভাড়া নেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে কোথাও বলা নেই এমনকি মিটারের দামও বলা হয়নি। এতে পিরোজপুরের প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকরা শঙ্কিত। পুরনো মিটারটি খুলে যখন নতুন প্রি-পেইড মিটার লাগানো হয়েছিল তখন বলা হয়েছিল মিটারের জন্য কোনো মূল্য দিতে হবে না। এখন মিটার ক্রয় বাবদ প্রতি মাসে টাকা কেটে নিচ্ছে।

নরসিংদীতে প্রি-পেইড

মিটার স্থাপনের প্রতিবাদ

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, পল্লী বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে নরসিংদীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের চৌয়ালাস্থ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি নরসিংদী-২ কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার সকালে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নরসিংদী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মোবারক হোসেন ভূঁইয়া নৃেতত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেয়। নরসিংদী-ঢাকা সড়কের দুই পাশে দাড়িয়ে বিদ্যুত্ গ্রাহক নারী-পুরুষরা অবিলম্বে নরসিংদী থেকে পল্লী বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার তুলে নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরকার হাসান, নরসিংদী সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আরমান মিয়া, সমবায়ী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুর রহমান সাদেক, অধ্যাপক আবু সাহিদ মিয়া, ডা. রফিকুল ইসলাম রতন, জিয়াউর রহমান জিয়া, হাবিবুর রহমান হাবি, মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেন, হাজীপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহীন ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব মিটারে আগের চেয়ে বেশি বিদ্যুত্ বিল দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

তারা আরো বলেন, কারো বিল যদি আগে ৫০০ টাকা আসতো, এখন প্রি-পেইড মিটারে তা আসছে ১১০০/১২০০ টাকা। মিটারের ভাড়াও আগের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া মিটার হঠাত্ লক হয়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পল্লী বিদ্যুতের লোক ছাড়া কাজ করা নিষেধ বিধায় তাদেরকে ডেকেও তাত্ক্ষণিক পাওয়া যায় না। তা ছাড়া রিচার্জে কত টাকা কেটে নেওয়া হলো, মেয়াদ কতদিন, কত ইউনিট খরচ হলো মিটারের ডিসপ্লেতে এসব তথ্য উল্লেখ নেই।

তাই পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি নরসিংদী-২ এর আওতাধীন সকল প্রি-পেইড মিটার অবিলম্বে তুলে নেওয়া, গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া এবং নতুন কোন সেবা চাপিয়ে দেওয়ার আগে গ্রাহকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে মর্মে হুশিয়ারি দেন বক্তারা।