লাইনম্যান ও যন্ত্রপাতি সংকট

বড়লেখায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসেবায় বিঘ্ন

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ে লাইনম্যান ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে প্রায়ই বিদ্যুত্ বিভ্রাট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে গ্রাহকসেবা। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। অপর দিকে, উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্র না থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কার্যালয়ের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। আরো প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগের কাজ চলমান রয়েছে। এ বছর শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি জনবল। চাহিদার তুলনায় লাইনম্যানের সংখ্যা খুবই কম। বড়লেখা শহর কার্যালয়ে ১২ জন, দাসেরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রে চারজন, আজিমগঞ্জ (সুজানগর) অভিযোগ কেন্দ্রে চারজন ও জুড়ী অভিযোগ কেন্দ্রে পাঁচজনসহ লাইনম্যান কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। দুই হাজার গ্রাহকের বিপরীতে একজন করে লাইনম্যান থাকার কথা। সে হিসেবে লাইনম্যানের ১০টি পদ শূন্য আছে। সংকট আছে ট্রান্সফরমার ও লাইনের ফিউজ খোলা-লাগানোর যন্ত্র ফোল্ডিং হটিস্টিকেরও। পাঁচটি ফোল্ডিং হটিস্টিক থাকার কথা। আছে মাত্র দুটি। এইগুলো আবার পুরাতন হওয়ায় কাজ করে না। জরুরি মুহূর্তে বিপাকে পড়ে লাইনম্যানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ দিয়ে ট্রান্সফরমার ও লাইনের ফিউজ খোলা লাগানো করে থাকেন। পাহাড় ও হাওরবেষ্টিত এই উপজেলাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে লাইন মেরামত করতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হয়। ঘন ঘন বিদ্যুত্ বিভ্রাটে গ্রাহকের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে।

শহরের বাসিন্দা শিক্ষক বিমান কান্তি দাস ও ব্যবসায়ী ইফতে খায়রুল বাসার বাবলু বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুত্ বিভ্রাট হয়। প্রায়ই দেখি মোটরসাইকেলে করে লাইনম্যানরা লম্বা বাঁশ নিয়ে আসে। ওটা দিয়ে ফিউজ দেয়।’

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে শহর থেকে এসে লাইন মেরামত করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। একটা অভিযোগ কেন্দ্র খুব জরুরি। এতে আমার ইউনিয়ন এলাকা ছাড়াও পাশের নিজ বাহাদুরপুর ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের একটি বড় অংশের লাইনের মেরামত কাজ দ্রুততম সময়ে হবে।

বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘লাইনম্যান সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ও অবগত আছেন। ফোল্ডিং হটিস্টিক দুটি আছে। ঐ বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জুড়ীতে আরো একটি অভিযোগ কেন্দ্রের প্রস্তাব পাঠানো আছে। শাহবাজপুরেও একটা দরকার। এতে আমরা ভালো সার্ভিস দিতে পারব গ্রাহকদের।’