কুমিল্লার চান্দিনায় স্বামীর পিটুনিতে ঝর্ণা বেগম (৩৫) নামে তিন সন্তানের এক জননীর মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার গল্লাই গ্রাম থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে চান্দিনা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রহমান বাদী হয়ে থানা মামলা দায়ের করেন।
নিহত ঝর্না বেগম উপজেলার গল্লাই গ্রামের হাজী আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। ১৫ বছর আগে একই গ্রামের মনির হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝর্নার স্বামী নসিমন চালক মনির হোসেন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে প্রায় ঝর্নাকে মারপিট করতো। গত বৃহস্পতিবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে মারধর শুরু করে। প্রতিবেশীরা এসে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেও পরদিন শুক্রবার সকালে আবারও মারধর করে। লোহার রড দিয়ে এলোপাথারী মারধর করার এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে ঝর্না বেগম। পরে তাকে পাশ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাধীন এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় প্রতিবেশীরা। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকেলে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ গল্লাই বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী মনির। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরা খরব পেয়ে রাত ১২টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করি। শনিবার নিহতের ভাই আব্দুর রহমান বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/নূহু