রাজকুমারী মামলায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালত একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছে। শিশু রাজকুমারীর সুরক্ষায় বিজ্ঞ জজ ফারজানা আকতার আগ্রহী অভিভাবক প্রার্থী সুমন দম্পতিকে তফসিলি ব্যাংকে রাজকুমারীর নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ বকশীগঞ্জ পৌর শহরের শ্মশানঘাটে কে বা কারা দুই দিন বয়সি এক কন্যাশিশুকে রেখে পালিয়ে যায়। কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশী আছর আলীর স্ত্রী সন্ধ্যি বেগম শিশুটিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক পরিচর্যা করেন। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে কুড়িয়ে পাওয়া ফুটফুটে নবজাতকটির নাম রাখা হয় রাজকুমারী।
রাজকুমারীকে পেতে জামালপুরের বকশীগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়। স্বাধীনতার পর জামালপুরের বিজ্ঞ আদালতে এ ধরনের মামলা হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের মামলা জামালপুরে প্রথম। একটি মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপা। অপর মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের কামারপট্টি মোড়ের ভ্যানচালক সুমন মিয়া। উভয় বাদী রাজকুমারীর অভিভাবকত্ব নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করেন। মামলার উভয় বাদী একে অপরকে প্রতিপক্ষ করেন। মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলায় ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় ও ফারহানা ইয়াসমিন রিপার স্বামী ব্যাংকার সামিউল হক। সুমন মিয়ার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুমান, বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর ও মহিলা কাউন্সিলর রহিমা।
২০ দিন আইনি লড়াইয়ের পর ২০ মে জামালপুরের বকশীগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতের বিজ্ঞ জজ ফারজানা আকতার রাজকুমারী মামলার রায় দেন। রায়ে যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে রাজকুমারীর সুরক্ষায় তার নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিটসহ তিনটি বিশেষ শর্তে সুমন দম্পতিকে অভিভাবক মনোনীত করা হয়। টাকা জমা দেওয়াসহ ব্যাংকের যাবতীয় কাজ শেষ করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৩০ কার্যদিবস।
মামলায় ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জামালপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকি বিল্লাহ ও অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সিরাজী। সুমন দম্পতির পক্ষে ছিলেন সাবেক পিপি মাহফুজুর রহমান মন্টু ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান।
ভুল সংশোধন
অপরদিকে রাজকুমারী মামলার রায়ের পর একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনামে রাজকুমারীকে পেতে ‘২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট’-এর পরিবর্তে ‘রাজকুমারীর মূল্য ২০ লাখ টাকা’, বিজ্ঞ আদালতের ঠিকানা পারিবারিক জজ আদালত-এর পরিবর্তে ‘পারিবারিক সহকারী জজ আদালত’, বিজ্ঞ বিচারকের নাম ‘ফারজানা আকতার’-এর পরিবর্তে ‘ফারহানা আক্তার’, ‘জজ’-এর পরিবর্তে ‘সহকারী জজ’ ও রায়ের সময় ‘২০ দিনের’ পরিবর্তে ‘৫০ দিন’ ছাপা হয়।
এই নিয়ে বকশীগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালত চারজন সাংবাদিককে সশরীরে হাজির হয়ে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন। ১৭ ও ১৮ জুন সাংবাদিকরা বিজ্ঞ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে বিজ্ঞ জজের কাছে ব্যাখ্যা প্রদান ও জবাব দেন। আদালতে সাংবাদিকরা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন। বিজ্ঞ আদালত সাংবাদিকদের বক্তব্য শুনে তাদের অব্যাহতি দেন।