সাকিবে মুগ্ধ ফ্লেমিং

‘বাংলাদেশ সেমিতে খেলতে পারে’

ডেমিয়েন ফ্লেমিং ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সোনালি দলের তুলনামূলক কম আলোচিত ফাস্ট বোলার। অবসরের পর সাংবাদিকতা করছেন এখন। গভীরভাবে অনুসরণ করেন বাংলাদেশ দল ও সাকিব আল হাসানকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, সাকিব এবার বিশ্বকাপে নিজেকে সত্যিকারের গ্রেটে পরিণত করেছেন। ফ্লেমিং বলছিলেন বাংলাদেশ হতে পারে সেমিফাইনালের চতুর্থ দলটি।

বিডি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ডেমিয়েন ফ্লেমিং বলছিলেন, সাকিবের পারফরম্যান্সে তিনি মুগ্ধ; কিন্তু অবাক হননি, ‘সাকিবের পারফরম্যান্সে আমি মুগ্ধ। অবাক যদিও হইনি। গত ১০ বছর ধরেই সে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। আমরা যারা গভীরভাবে ক্রিকেট অনুসরণ করি, তারা সব সময়ই জানতাম, বাংলাদেশকে দারুণ কিছু করতে হলে সাকিবকে ভালো করতে হতোই। বিশ্বকাপে পিঠাপিঠি দুটি সেঞ্চুরি করা চাট্টিখানি কথা নয়। আশা করি, সে এই ফর্ম ধরে রাখবে।’

সাকিব যে এই পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের গ্রেটনেসটা নিশ্চিত করেছেন, সেটাও বলছিলেন ফ্লেমিং, ‘আমার যেটা ভালো লেগেছে, সাকিব সব সময়ই সম্ভাব্য গ্রেটদের কাতারে ছিল। প্রয়োজন ছিল স্রেফ সেটি নিশ্চিত করা। অন্য একটি পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে যাওয়া। আমি খুবই খুশি যে এই বিশ্বকাপে সে নিজেকে সেই পর্যায়ে নিতে পেরেছে। অনেক বড় দায়িত্ব ছিল তার ওপর, কী দারুণভাবেই না পূরণ করছে!’

শুধু সাকিব নয়, পুরো বাংলাদেশের পারফরম্যান্সেও ফ্লেমিং খুশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বলছিলেন, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একের পর এক বাউন্সার করেছে, শর্ট বল করেছে, বাংলাদেশ পালটা জবাব দিয়েছে। তার মানে, এসবে তারা আর ভীত নয়।’

বাংলাদেশ এখন একটা বড় দল বলেই বিশ্বাস এই সাবেক ফাস্ট বোলারের। তার বিশ্বাস, এখন বাংলাদেশ কয়েক জন ফাস্ট বোলার খুঁজে পেলে দলটি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, ‘বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন ভালো কিছু ফাস্ট বোলার। একজন-দুজন ভালো পেসার তারা অনেক সময়ই পেয়েছে। প্রয়োজন আরো কয়েকজনকে পাওয়া। বুমরাহ-শামিদের মতো পেসার পাওয়া। কাজটা যদিও সহজ নয়।’

কিন্তু বাংলাদেশ সম্প্রতি এত ভালো করার পরও এই দলটাকে টেস্ট সফরে ডাকছে না অস্ট্রেলিয়া। ফ্লেমিং নিজেও অসন্তুষ্ট অস্ট্রেলিয়ান বোর্ডের এই আচরণে। তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশের কাছে নিজের মাটিতে হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই এই দলটাকে সফরে ডাকে না সম্ভবত অস্ট্রেলিয়া, ‘বাংলাদেশকে সফরে না ডাকার একটা কারণ হতে পারে, অস্ট্রেলিয়ার আসলে শঙ্কা আছে! কারণ বাংলাদেশকে সফরে নিলে ক্রিকেট মৌসুমে তো আর নেবে না, পরে নেবে। খেলতে হবে কেয়ার্নস বা ডারউইনে, যেখানে বল টার্ন করে। হয়তো তারা একটু হলেও শঙ্কিত যে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের কাছে হারতে পারে!’

বাংলাদেশ দারুণভাবে এগোচ্ছে, তাই না? সম্ভাব্য সেমিফাইনাল সবাই ধরে নিয়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও হয়তো নিউজিল্যান্ড। তবে বাংলাদেশ সবাইকে চমকে সেমিতে জায়গা করে নিতেও পারে! এই দলের যে বিশেষত্ব আমার চোখে পড়েছে, তারা আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বাস করে যে জিততে পারে।