আমাদের দেশের খুব পরিচিত ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি উদ্ভিদ। এক ধরনের খুব ছোট বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica। মাটির ওপর লতার মতো বাড়ে। বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার পাশে কিংবা খেতের আইলে ছোট ছোট এই থানকুনি উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। পাতা গোলাকার ও খাঁজকাটা। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেই থানকুনি জন্মে। আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধুলাবেগুন ইত্যাদি স্থানীয় নামেও পরিচিত। প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামাঞ্চলে এর পাতা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই ছোট্ট আকৃতির গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে অনেক ওষুধিগুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধে অতুলনীয়। পাতায় এমন ভেষজগুণ রয়েছে যা নিয়মিত খেলে পেটের অসুখ হয় না। পেটের অসুখে থানকুনির পাতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। ভেষজগুণে সমৃদ্ধ থানকুনির রসে রয়েছে শরীরের জন্য প্রচুর উপকারী খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় পদার্থ। থানকুনি পাতার রস পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ, স্মরণশক্তি ও হজমশক্তি বর্ধক। পাতার রসে জিংক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান—তাই থানকুনি পাতার রস বার্ধক্য প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিক্যাল ত্বকের ভেতর পুষ্টির ঘাটতি দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। আমাশয়, বদহজম, ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা, গ্যাস্ট্র্রিক-আলসার রোগ নিরাময়ে এই পাতার রস খুবই উপকারী। হাজারো গুণের সমাবেশ রয়েছে থানকুনি পাতায়।