খাতা মূল্যায়নে তৃতীয় পরীক্ষক

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) মেধাবীদের নিয়োগে সঠিক মূল্যায়নে এবারই প্রথম তৃতীয় পরীক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। আগে সবসময়ই একজন পরীক্ষক লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতেন। কিন্তু ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দুজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করছেন। এই দুই পরীক্ষকের প্রদত্ত নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠাচ্ছে পিএসসি। ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও মেধাবী নিয়োগে এই ‘তৃতীয় পরীক্ষক’ পদ্ধতির জন্য ফলাফল প্রকাশে একটু বিলম্বও হচ্ছে। তবে চাকরি প্রার্থীদের কেউ কেউ ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে হা-হুতাশ করলেও বেশিরভাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, পিএসসির খাতা মূল্যায়নের নতুন এই পদ্ধতি   মেধাবীদের যোগ্য স্থানে নিয়ে যাবে। এখানে কেউ বঞ্চিত হবেন না।

বিসিএস পরীক্ষার উত্তরপত্র সঠিকভাবে দেখা হচ্ছে না— এমন অভিযোগ তুলে পরীক্ষার্থীরা তা পুনর্মূল্যায়নের দাবি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সেই অনুযায়ী ৩৮তম বিসিএস থেকে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র দুজন পরীক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পিএসসি। এই নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রথম পরীক্ষক এবং দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বরের গড় যোগফল পাবেন পরীক্ষার্থীরা। আর দুজন পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরের ব্যবধান ২০-এর বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষক উত্তরপত্র দেখবেন। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছাকাছি প্রথম ও দ্বিতীয় পরীক্ষকের মধ্যে যার নম্বরটি থাকবে, সেটি আমলে নিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ৩৮তম বিসিএসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থীর খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমবারের মতো ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা আমরা দুজন পরীক্ষকের দ্বারা মূল্যায়ন করেছি। ঈদের পর থেকে কিছু কিছু খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভালো কিছু করতে একটু সময় লাগেই। তাছাড়া ৩৮তম বিসিএসের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৫ হাজার চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। চাকরি প্রত্যাশীদের এটা বুঝতে হবে। আমরা চাচ্ছি, খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিখুঁত হোক। প্রতিটি খাতা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আশা করছি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় চার লাখ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হন। গত বছরের ৮ আগস্ট এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। প্রশাসন ক্যাডারে তিনশ, পুলিশ ক্যাডারের একশটিসহ জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।