বীরের মতো লড়ল বাংলাদেশ বাংলাদেশের লড়াকু হার

নটিংহ্যামে মুশফিকের ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি, ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েও অস্ট্রেলিয়ার রান-পাহাড় টপকানো সম্ভব হয়নি। তবে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বুক চিতিয়ে লড়েছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। ৯৭ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেছেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ।

টার্গেটটা ছিল আকাশচুম্বী। ট্রেন্ট ব্রিজের রানের উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান উত্সবকে উসকে দিয়েছিল সাব্বির রহমানের ক্যাচ মিস ও বোলারদের খরুচে বোলিং। গতকাল ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩৮১ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে মুশফিকের সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৩৩৩ রানের বেশি যেতে পারেনি। ছয় ম্যাচে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় হার। সমান ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার এটি পঞ্চম জয়। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল অজিরা। ওয়ার্নার ম্যাচ সেরা হন।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চতুর্থ ওভারে তামিমের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিতে রান আউট হন সৌম্য (১০)। দ্বিতীয় উইকেটে সাকিব-তামিমের ৭৯ রানের জুটি আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু দলীয় ১০২ রানে সবচেয়ে বড় ভরসা সাকিব স্টয়নিসের শিকার হন। তিনি ৪১ রান করেন। ৬৫ বলে তামিম পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ৪৮তম হাফ সেঞ্চুরি। স্টার্কের প্লেড হয়ে ফেরার আগে ৬২ রান করেন তিনি। জাম্পার বলে এলবির ফাঁদে পড়ে আউট হন লিটন (২০)। ১৭৫ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ।

তাঁদের ব্যাটেই বীরোচিত জবাব দেয় বাংলাদেশ। তাঁদের ১২৭ রানের জুটি ভাঙে কোল্টার নাইলের করা ৪৬তম ওভারে। কামিন্সের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ ৫০ বলে ৬৯ রান (৫ চার, ৩ ছয়) করেন। ঠিক পরের বলেই প্লেড অন হন সাব্বির (০)। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে ৯৫ বলে সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। মিরাজ (৬) ও মাশরাফি (৬) শেষদিকে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মুশফিকের ১০২ রানের মধ্য ছিল ৯ চার ও ১ ছয়। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক, কোল্টার নাইল, স্টয়নিস দুটি করে উইকেট পান।

এর আগে ট্রেন্ট ব্রিজের রানের উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান-উত্সব প্রত্যাশিত ছিল। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ৩৭তম ওভার পর্যন্ত ভালোই আটকে রেখেছিলেন অজি ব্যাটসম্যানদের। তখন তাঁদের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ২১৮ রান। তার পরই লাগাম ছুটে যায়। ততক্ষণে ওয়ার্নার সেঞ্চুরি ও উসমান খাজা হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন। ৩৮ থেকে ৪৬— এই নয় ওভারে ১২৮ রান দিয়েছে বাংলাদেশ। ৪৬তম ওভারে রুবেল দিয়েছেন ২৫ রান।

ইনিংসের শুরুতে মাশরাফির করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওয়ার্নারের ক্যাচ ফেলেন সাব্বির। যার চড়া মাশুল দেয় বাংলাদেশ। জীবন পেয়ে আরো ১৫৬ রান যোগ করেছিলেন ওয়ার্নার। সাব্বিরের ক্যাচ মিস ও এই নয় ওভারের সময়টাই মূলত ম্যাচে মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

অজিদের ওপেনিং ভাঙে ১২১ রানে। ২১তম ওভারে ফিঞ্চকে আউট করে বাংলাদেশকে  ব্রেক থ্রু এনে দেন সৌম্য। ফিঞ্চ ৫৩ রান করেন। অনিয়মিত বোলার সৌম্যই এ দিন বাংলাদেশের সেরা বোলার। ক্যারিয়ার সেরা ৫৮ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি। গতকাল ফিঞ্চের পর ওয়ার্নার, উসমান খাজাকেও ফিরিয়েছেন তিনি। তবে এর মাঝে দ্বিতীয় উইকেটে ১৯২ রানের জুটি গড়েছেন তারা। ওয়ার্নার ১১০ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি। ইনিংসের ৪৫তম ওভারে দলীয় ৩১৩ রানে শর্ট থার্ড ম্যানে রুবেলের হাতে ক্যাচ দেন ওয়ার্নার। চলতি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৬ রানের (১৪ চার, ৫ ছয়) ইনিংস খেলেন তিনি। পরে ১০ বলে ৩২ রানের ক্যামিও খেলেন ম্যাক্সওয়েল। সৌম্যর করা ৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রান আউট হন তিনি। দুই বল পর উসমান খাজাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান সৌম্য। খাজা ৮৯ রান করেন। পরের ওভারের প্রথম বলে মুস্তাফিজ ফেরান স্মিথকে (১)। স্টয়নিস অপরাজিত ১৭, ক্যারি অপরাজিত ১১ রান করেন।