কচুরিপানা থেকে ৩০ বছরেও মুক্তি মেলেনি ওদের

দীর্ঘ ৩০ বছরেও কচুরিপানার বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাননি ইছামতির শাখা নদীর তীরবর্তী সিরাজদিখান উপজেলার ৭/৮ গ্রামের মানুষ। কচুরিপানার কারণে তাদের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নদীর শেষদিকে ৫ কিলোমিটার অংশে কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। লোকজন নদীর ময়লা পানি দিয়ে গোসল কিংবা গৃহস্থালি কাজকর্ম করতে পারছেন না। এলাকায় মশা-মাছি, পোকা-মাকড় ও সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। কচুরিপানার কারণে সিরাজদিখান থেকে রামকৃষ্ণদী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার  নৌ পথটি বন্ধ থাকার কারণে লোকজন পড়েছেন মহাবিপাকে। ট্রলার চালকরা কাজ না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে নদীর পরিবর্তে সড়কপথে মালামাল পরিবহনে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

ইছামতির এই শাখা নদীটি শুষ্ক মৌসুমে একেবারে শুকিয়ে যায়। তখন পায়ে হেঁটে কিংবা নৌকায় কোনোভাবেই চলাচল সম্ভব হয় না। আবার বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ দিক থেকে আসা কচুরিপানা এসে ভরে যায়। নদীর উত্তর পাশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কচুরিপানা বের হতে পারে না কিংবা আর দক্ষিণ দিকে ফিরে যাওয়াও সম্ভব হয় না। তাই সেগুলো আটকে থাকে। কচুরিপানা পরিষ্কারসহ নদীটি সংস্কার করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা দরকার বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মানুষজন।

এ ব্যাপারে খালের তীরবর্তী গ্রাম গুয়াখোলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি সামসুজ্জামান পনির জানান, নদীটি সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের এলাকার পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন করা হয়েছে কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে কর্তৃপক্ষ বরাবর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নদী সংস্কারের আবেদন করলে জেলা প্রশাসনের লিখিত নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন  গুয়াখোলা উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে নদীটি সংস্কারের জন্য সভাপতি বরাবর লিখিত নির্দেশ প্রদান করে। পরে সমিতি নদীর সামান্য অংশ সংস্কার করলে এলাকাবাসী যথেষ্ট উপকৃত হন বলে জানা যায়। সমিতির সভাপতি আরো জানান, এত বড় নদী সরকারি বরাদ্দ ছাড়া স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সংস্কার করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।