‘ছোট দল’ বলেই আইরিশদের বিপক্ষে বাড়তি সতর্কতা

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির পর এ পর্যন্ত ১৩৬টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর বেশির ভাগ টেস্টেই বাংলাদেশ খেলতে নেমেছে পরিষ্কার ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে। ‘ফেভারিট’ তকমা গায়ে টেস্ট খেলার সুযোগ বাংলাদেশ পেয়েছে খুবই কম। আজ সেই সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর আজ থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট। নিশ্চিতভাবেই এই টেস্টে বাংলাদেশ ফেভারিটের আসনে। প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড ‘আন্ডারডগ’।

এই যে গায়ে ফেভারিটের তকমা, বাংলাদেশ দলের জন্য নিশ্চিতভাবেই এটা বাড়তি একটা চাপ। সাকিব আল হাসানের দল বিষয়টিকে চাপ হিসেবে না নিলেও ‘ছোট দল’ বলে আইরিশদের বিপক্ষে টেস্টটা খেলতে নামছে বাড়তি সতর্কতার চাদর মুড়িয়ে। এই সতর্কতার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ মাঠে নামছে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিরাজ স্পষ্ট করেই বলেছেন, ছোট দলের বিপক্ষেই ফোকাসটা বেশি থাকে, ‘আমার মনে হয়, বড় দলের চেয়ে ছোট দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে ফোকাসটা বেশি থাকে।’ মিরাজ অবশ্য এটাও বলেছেন, আয়ারল্যান্ডকে তারা মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না, ‘আয়ারল্যান্ডকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। তাদের বিপক্ষে আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’

২০১৯ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির পর আইরিশরা এ পর্যন্ত মাত্র ৩টি টেস্ট খেলেছে। হেরেছে ৩টিতেই। তার মধ্যে একটি হার আছে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও। ১৩৬ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দলের বিপক্ষে ৩ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দলের লড়াই। তাছাড়া আয়ারল্যান্ডের এবারের দলটিও খানিকটা খর্বশক্তির। দলের বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার নেই। তাদের পরিবর্তে স্কোয়াডে রয়েছেন বেশ কয়েক জন নবাগত খেলোয়াড়। আজ আইরিশদের হয়ে বেশ কয়েকজনের টেস্ট অভিষেকও হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ড সত্যিই আন্ডারডগ।

তাই বলে তাদের হালকা করে দেখার সুযোগ আসলেই নেই। তাছাড়া বাংলাদেশের তিক্ত একটা অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৯ সালে এই আয়ারল্যান্ডের মতোই পুঁচকে দল হিসেবে টেস্ট খেলতে এসেছিল বাংলাদেশে। চট্টগ্রামের একমাত্র সেই টেস্টে সাকিবদের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা সহজে ভোলার নয়। এই সাকিবের নেতৃত্বেই রশিদ খানের আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ টেস্টটা হেরেছিল ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেই হারটা লজ্জার কালো টীকা হয়েই আছে। কাজেই আইরিশদের বিপক্ষে সতর্ক সাকিবের দল।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দল টেস্টের অনুশীলন করেছে মাত্র দুই দিন। কিন্তু অধিনায়ক সাকিব দুই দিনের এক দিনও অনুশীলন করেননি। গতকাল অবশ্য তিনি মাঠে এসেছিলেন। কিন্তু অনুশীলন করেননি। ফলে অনুশীলন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মিরাজ। গায়ে সতর্কতার চাদর মুড়িয়ে তিনি প্রত্যাশার ছবিই আকার চেষ্টা করেছেন। আইরিশরাও আশাবাদী।

মজার বিষয় হলো আশার ছবি আকাতে গিয়ে দুই দলই একটা বিষয় নিয়ে খুব খুশি—সেটি হলো উইকেট। মিরপুরের যে উইকেটে টেস্টটা হবে, সেটি দেখে মিরাজ যেমন খুশি, তেমনি খুশি আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নিও। মিরাজের দাবি, উইকেট হবে স্পোর্টিং। মানে উইকেটে যেমন রান হবে, তেমনি পেসার এবং স্পিনাররাও সহায়তা পাবেন, ‘উইকেটটা আমরা দেখেছি। ভালো উইকেট বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যেন সবদিকই আমরা ভালো করতে পারি। ব্যাটসম্যানরাও যেমন ভালো করতে পারি, তেমনি পেসার-স্পিনাররাও।’

আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক বালবার্নি বলেছেন, ‘(উইকেট) দেখে তো খুবই ভালো মনে হলো। আমি ঠিক জানি না, তারা আজ আবার ঘাস ছাঁটবে কি না। তবে আমরা এই মাঠ নিয়ে হোমওয়ার্ক করেছি। মাঠে নেমে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। উইকেটের ভাবনায় খুব বেশি প্রভাবিত হতে চাই না। আমরা আমদের নিজেদের দিকেই মনোযোগ দেব।’

নিজেদের কাজে এই মনোযোগ যাদের বেশি থাকবে, জয় হবে তাদেরই।