সিদ্ধিরগঞ্জে জিন তাড়ানোর কথা বলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক কবিরাজ দম্পতির বিরুদ্ধে। গত বুধবার দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি চৌধুরীপাড়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) ঢাকার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। এ ঘটনায় কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিখার মা সুরাইয়া বেগম জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে খোঁজ মিলে কবিরাজ ফারুক হোসেনের। মেয়েকে ভালো করার জন্য কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিনের সঙ্গে তার ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। কবিরাজ অগ্রিম ৭ হাজার টাকা নেয়। প্রথমে ঝাড়-ফুকের মাধ্যমে চলে চিকিত্সা। একপর্যায়ে কবিরাজ দম্পতি বলে আপনার মেয়ের ওপর থেকে জিনের খারাপ আছর বিদায় করতে হলে তাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে হবে। পরে মিজমিজি চৌধুরিপাড়ায় কবিরাজের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় শিখাকে। কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন চিকিত্সার নামে শিখার ওপর চালায় শারীরিক নির্যাতন। শিখার প্রচণ্ড আর্তচিত্কারেও থামেনি তাদের নির্যাতন। মেয়ের চিত্কার শুনে মা প্রতিবাদ করলে তারা বলে আমরাতো আপনার মেয়েকে মারছি না, মারছি তার সাথে থাকা খারাপ জিনকে। আর চিত্কারতো সে করছে না, করছে ওই খারাপ জিন। আপনার সহ্য না হলে পাশের ঘরে গিয়ে বসে থাকেন।
একপর্যায়ে কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন গৃহবধূ শিখার হাত পা বেঁধে ফেলে। পরে বুকের ওপর উঠে আঘাত করতে থাকে, মুখে কাপড় ঢুকিয়ে গলা চেপে ধরে রাখে। এভাবে চলে দুইদিন। সুরাইয়া বেগম জানান, বুধবার দুপুরে মেয়েকে কবিরাজের বাড়ি রেখে নিজের বাড়িতে যাই ব্যক্তিগত কাজে। পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় কবিরাজ ফারুক ফোন করে বলে ‘আপনার মেয়েকে খারাপ জিন টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আপনি তাড়াতাড়ি আসেন।’ এখবর শুনে কবিরাজের বাড়িতে তিনি গিয়ে দেখেন মেয়েকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি তার ব্যক্তিগত ডাক্তারকে খবর দিলে চিকিত্সক এসে দেখেন শিখা মারা গেছেন কয়েক ঘণ্টা আগে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিম উদ্দিন জানান, কবিরাজের ভুল চিকিত্সায় শিখা নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে শিখার লাশ উদ্ধার করেছি। কবিরাজ দম্পতিকে আটক করেছি। শিখার মা এ ঘটনায় রাতেই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।