দিনের শেষ বল। পার করে দিতে পারলেই স্বস্তির নিঃশ্বাস। অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল পারবেন না? বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম পেরিয়ে সব ক্রিকেটপ্রেমীর মনে। কিন্তু হলো না। তামিম ইকবাল আউট হলেন একেবারে দিনের শেষ বলে। ফলে বাংলাদেশের প্রথম দিনের শেষটা হলো চরম হতাশায়। তাইজুল ইসলামের ৫ উইকেট প্রাপ্তির আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে তামিমের আউটে।
কারণ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে দারুণ বোলিং করেও ব্যাটিংয়ে শঙ্কার মেঘ জমাট বেঁধেছে। আজ (মঙ্গলবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তাইজুলের ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২১৪ রানে গুটিয়ে গেছে আইরিশরা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৪ রান তুলতে ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে আছে ১৮০ রানে।
আয়ারল্যান্ডকে অলআউট করে শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই খায় ধাক্কা। ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত মুখোমুখি প্রথম বলেই আউট। মার্ক অ্যাডাইরের বলে ক্লিন বোল্ড। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে মুমিনুল হককে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম। দারুণ ব্যাটিংয়ে চলে এসেছিলেন শেষ প্রান্তে। বাকি ছিল মাত্র ১ বল। সামলাতে পারলেই চমৎকার একটা দিন লেখা হতো স্বাগতিকদের পাশে। কিন্তু অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের বলে আউট হয়ে যান বাঁহাতি ওপেনার। তার ব্যাট ছুঁয়ে বল জমা পড়ে দ্বিতীয় স্লিপে থাকা অ্যাডাইরের হাতে।
৩৬ বলে তামিমের নামের পাশে তখন লেখা ২১ রান। ২ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি। অপরাজিত থাকা মুমিনুল ১২ রান নিয়ে শুরু করবেন দ্বিতীয় দিনের খেলা।
এর আগে তাইজুলের ঘূর্ণিতে ২১৪ রানে অলআউট হয় আইরিশরা। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার। ২৮ ওভারে ৫৮ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট। আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ৪৩ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট। তার সমান ২ উইকেট নিতে এবাদত হোসেনের খরচ ৫৪ রান। আর একটি উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের বোলারদের দাপটের দিনে আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্কোরার হ্যারি টেক্টরের। মিরাজের শিকার হওয়ার আগে ৫০ রান করেছেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন লর্কান ট্যাকার। ৩৪ রান এসেছে কার্টিস ক্যাম্ফারের ব্যাট থেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: (প্রথম দিন শেষে)
আয়ারল্যান্ড: প্রথম ইনিংসে ৭৭.২ ওভারে ২১৪ (টেক্টর ৫০, ট্যাকার ৩৭, ক্যাম্ফার ৩৪, অ্যাডাইর ৩২; তাইজুল ৫/৫৮, মিরাজ ২/৪৩, এবাদত ২/৫৪)।
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংসে ১০ ওভারে ৩৪/২ (তামিম ২১, মুমিনুল ১২*, শান্ত ০; অ্যাডাইর ১/৩, ম্যাকব্রায়ান ১/১৩)।