যেসব অভ্যাসে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

কদিন আগে উদযাপিত হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য। তবে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা জানাচ্ছে, ওবেসিটি, কোলেস্টেরল এবং থাইরয়েডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদরোগের সমস্যা। অল্পবয়সীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই স্বভাবতই সবার মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সহজে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক কিছু পরামর্শ দিয়ে বলেন: 

হৃদরোগ

  • প্রথমেই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। তামাকজাত পণ্য এবং অ্যালকোহল হৃদরোগের অন্যতম ক্ষতিকর অভ্যাস। কষ্ট হলেও এই অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি।
  • শরীরের উচ্চতার অনুপাতে ওজন বেশি থাকলেও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। আলস্য ভরা জীবন ও একঘেয়ে বসে থাকার চাকরি থেকেও ওজন বাড়ার সমস্যা আসে। অনেক সময় মানসিক সমস্যা থেকেও এর উৎপত্তি ঘটে। ওজন কমানোর জন্য আজকাল অনেক পদ্ধতি রয়েছে। সেসব অনুসরণ করতে হবে।
  • শর্করা জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকা থেকে কমাতে হবে। তবে রিফাইন্ড শর্করা খাওয়া যেতে পারে। রিফাইন্ড শর্করা মানে পাউরুটির বদলে ব্রাউন ব্রেড, ময়দার বদলে আটার রুটি, ইত্যাদি।

হৃদরোগ

  • লাল মাংস, ভাজাভুজি, বাইরের খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্রচুর লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • খাবারে লবণ ও চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।
  • সপ্তাহে প্রতিদিনই ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে নিন। ভারি শরীরচর্চাই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। রোজ সকালে অন্তত আধঘণ্টা হাঁটার চেষ্টা করুন।
  • মানসিক উদ্বেগ বা চাপ থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করুন। মানসিক চাপ অনেক সময় হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ঠিকমতো রাতে ঘুমান। অনেক সময় রাতে ঘুম না হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়।