গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এনজিও

সহজেই মিলবে ঋণ, সঞ্চয় করলে অধিক মুনাফা, আবার সদস্যদের সন্তানসহ অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে পড়ালেখা করানো হবে। এমন প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষের সঞ্চয় করা লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে এফসি ফাউন্ডেশন নামক একটি ভুঁইফোড় এনজিও। এতে পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগীদের জানায়, গত দুই সপ্তাহ আগে উপজেলার বড়কুল পশ্চিম, বড়কুল পূর্ব, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন, হাজীগঞ্জ পৌরসভাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামে এফসি ফাউন্ডেশন নামের এক এনজিও’র কয়েকজন ফিল্ড অফিসার মানুষকে সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক কিস্তিতে ১০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদেরকে সদস্য (গ্রাহক) হিসেবে ভর্তি করায়।

এছাড়াও সঞ্চয়ের টাকায় অধিক মুনাফা প্রদান এবং সদস্যদের সন্তানসহ অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনামূল্যে পড়ালেখা করানো হবে বলে প্রলোভন দেখায়। এরপর সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে এবং ঋণের জামানত হিসাবে টাকা নেওয়া শুরু করে। এর মধ্যে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে তারা ভর্তিকৃত সদস্যদের পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে পড়ালেখা করানোর জন্য শিশুদের মাঝে শিশু ও প্রাথমিক শিক্ষার কিছু বই বিতরণ করে এবং ঋণের জামানত হিসাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নেয়।

এভাবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েক শতাধিক মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ‘এফসি ফাউন্ডেশন’ নামের এই এনজিও। ঋণের জামানত নেওয়া গ্রাহকদের সোমবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন গ্রাহকরা খাটরা বিলওয়াই এলাকায় গিয়ে দেখেন অফিসে কেউ নেই। দুপুর গড়িয়ে বিকাল ও সন্ধ্যা পার হলেও কারও দেখা মেলেনি। কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরটিও ছিল বন্ধ।

এফসি ফাউন্ডেশনে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ার, টেবিল, কিছু শিশু ও প্রাথমিক শিক্ষার বই ও সমিতির সদস্য ফরম এবং পাশবই ছাড়া আর কিছুই নেই। অফিসে কাউকে না পাওয়ায় এবং ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সাব্বির রহমানের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভবনের মালিক মো. আব্দুর রহমান বলেন, গত ৪ এপ্রিল এফসি ফাউন্ডেশনের নামক একটি এনজিওর ব্রাঞ্চ ম্যানেজারসহ ৭ জন কর্মকর্তা আমার কাছে আসে। তারা একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসলে ভাড়াটিয়া হিসাবে জামানতের অগ্রিম টাকা প্রদান ও কাগজপত্র করার কথা বলেন। ওই সময় পর্যন্ত তারা ফ্ল্যাটটিতে অফিস করবেন।

তিনি আরও বলেন, এই বিশ্বাসে তাদেরকে অফিস করতে দেই। এভাবে সপ্তাহখানেক পার হয়। তাদের কর্মকর্তা এ সপ্তাহে আসবেন বলে আমাকে জানায়। এরপর দেখি রোববার ঋণের জন্য অফিসে অনেক লোক এসে হাজির হন। কিন্তু তাদের কোনো খবর নেই। এমনকি ম্যানেজারের মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। 

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এইমাত্র আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।